সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান (এম আর হাসান) পদত্যাগ করেছেন। গত সোমবার তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে তার পদত্যাগপত্রটি ওইদিনই রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয় বলে গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের এক কর্মকর্তা।
রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত কার্যক্রম চলমান ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের যে কজন বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত শুরু হয়, তাদের অন্যতম ছিলেন রেজাউল হাসান। তিনি দীর্ঘদিন হাইকোর্টে কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন। তবে, অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অসদাচরণ ও বিচারক হিসেবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী ইউ-লুপে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংকে গাড়িচাপা দেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে। এ ঘটনায় ছেলের পক্ষে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি আবেদন জমা দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক। তার বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগসহ দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে। এরই ধারাবাহিকতায় বিচারপতি রেজাউল হাসান পদত্যাগ করলেন।
রেজাউল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। রেজাউল হাসান ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।