শাপলা চত্বর হত্যাকান্ডের তদন্ত শেষ পর্যায়ে

শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকান্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল ম-লকে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলায় আবদুুল জলিলকে হাজির করা হলে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এদিকে গতকাল ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সহসাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, ‘আবদুুল জলিল ম-ল শাপলা চত্বর হত্যা মামলার প্রধান কুশীলব। তার বিরুদ্ধে অনেক আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেই মামলায় আজকে (গতকাল) তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করছি, খুব সহসাই তদন্ত কাজ শেষ হবে এবং ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করতে সক্ষম হবো।’

আবদুুল জলিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ছিলেন। শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকা-ের এ মামলায় গত বছরের ১২ মার্চ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৫ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।