বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ৯টি। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহতির জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একনেক প্রস্তুতি সভায় তালিকার চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ৬ এপ্রিল সভায় তোলার জন্য ১৭টি প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এদিন সকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান।
জানা গেছে, একনেক সভায় উন্নয়ন প্রকল্প পাস করা হয়। নতুন সরকারের প্রকল্পগুলো নিয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় কিছু প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখা ও কিছু প্রকল্প ধীরে বাস্তবায়নের একটা নির্দেশনা আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিবেচনার কাজ করেছে।
প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসিক নিবাস নির্মাণ; ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সোনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ এবং চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অংশীদারত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন চতুর্থ পর্ব প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে ৮ বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন প্রকল্প ও গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।
এ ছাড়া, রয়েছে সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায়; এবং ‘ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প’, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈরাগীপুর (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চরকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।
এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৩টি, গৃহায়ন ও গণপূর্তের ১টি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১টি প্রকল্প রয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন সরকার আসার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একনেক গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।