দেশের তিন জেলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্কুলছাত্রীসহ তিন নারী। এদের মাঝে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীদের মধ্যে ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রী, মাগুরায় গৃহবধূ ও রাজবাড়ীতে এক নারী রয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
ঝিনাইদহ : জেলার মহেশপুর উপজেলার বাগদিরাইট গ্রামে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার ওপর থেকে তুলে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এবং তা প্রদর্শন করে এলাকায় ‘উল্লাস’ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে শাওন ও হযরত আলী তার মুখ চেপে পাশের একটি ঘাস ক্ষেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরও দুজন যোগ দেয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একই গ্রামের হাফেজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন এবং দিনুর ছেলে নয়ন পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এ ছাড়া শাওন ও আমিন মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী বলে, ‘ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের ভয়ে আমরা প্রথমে চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা ভিডিও নিয়ে লোকজনের কাছে দেখায়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।’
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ‘ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মাগুরা : বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গৃহবধূর লিমা খাতুনের (২৩) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের বাবার বাড়ির পাশের একটি ঘাস ক্ষেত থেকে বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লিমা দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, লিমা খাতুন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে আসেন। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে এলাকাবাসী একটি ঘাস ক্ষেতের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
স্থানীয়দের ধারণা, নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান চলছে। জেলা পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’
রাজবাড়ী : জেলার পাংশা উপজেলায় এক নারীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলেন পাংশা পৌরসভার কুলটিয়া এলাকার হাবিবুর রহমান রাজার ছেলে হাসিবুর রহমান অন্তর (৩২), পারনারায়ণপুর এলাকার মো. তায়জাল মুন্সীর ছেলে মো. বরকত মুন্সী (৩৪) ও উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের আব্দুল মজিদের ছেলে রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ (৪০)। আসামিদের মধ্যে রাশেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ভুক্তভোগী নারী পাংশা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারীকে একটি হায়েচ মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তরা পরে রাত ৭টার দিকে ওই নারীকে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে চলে যায়।
পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মইনুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের অভিযোগে রাশেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।