নাটোরের বাগাতিপাড়া খড় পোড়ানোর সময় আগুন লেগে প্রায় ১৫ বিঘা জমির পাকা গম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে এলাকায় শোক ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কৃষকরা সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গাঁওপাড়া বিল এলাকায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে খড় পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের কৃষক রহম আলী তার জমিতে গম কাটার পর অবশিষ্ট খড় (খেড়) পোড়াতে আগুন দেন। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত গাঁওপাড়া বিলের বিস্তীর্ণ গমক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই পাকা গম পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়।
অভিযোগ করে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মশিউর রহমান বাবু জানান, স্থানীয়রা রহম আলীকে বাতাস ও রোদ বেশি থাকায় খড় পোড়াতে নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করেন। এর ফলে ভয়াবহ এই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তার আড়াই বিঘা জমির পুরো গম পুড়ে গেছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় জালাল আলীর ৩ বিঘা, আজগর আলীর আড়াই বিঘা, শাহবাজ আলীর দেড় বিঘা, মনসুর আলীর ১০ কাঠাসহ আরও অনেক কৃষকের পাকা গম পুড়ে গেছে। এতে তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা এবং দুই উপজেলার সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রতিকার পেতে হলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।