বাকলিয়ায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ ৪

চট্টগ্রামে নগরের বাকলিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বেড়েছে। সেখানকার মিয়াখান নগর এলাকায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় বিবদমান দুটি কিশোর গ্যাংয়ের  মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সবশেষ  শনিবার রাত ৯টার দিকে সেখানকার ময়দার মিল এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক কিশোরসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন মাদ্রাসা ছাত্র মো. ফাহিম(১৩), মো. জসিম (২৪) ও মো. ইছমাইল। তাদের সবাইকে শনিবার রাতেই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসাছাত্র মো. ফাহিমের বাবা সোলাইমান বাদশাসহ আরও দুই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ১৪জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২/১২জনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

মামলার এজাহারে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী স্থানীয় মিয়াখান নগরের বাসিন্দা মোর্শেদ খানকে। এছাড়া যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন আজম খান, শওকত, মো. ফারুক হোসেন, হোসেন, কিশোর গ্যাং সদস্য আবু কাউছার, মো. সজিব, সৈয়দ সুমন, মো. বাবলা, কানন, রায়হান ও নাছির। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান রবিবার বিকেল পাঁচটার দিকে জানান, মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৪ আসামির মধ্যে ফারুক হোসেন (৫০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার হেফাজত থেকে একটি শটগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়াখান নগর এলাকায় পৃথক দুই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোরশেদ খান ও আবদুস সোবহান। শনিবার রাতে এ দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দুই গ্রুপই আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র রামদা ও কিরিচ নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মোরশেদ খান পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। প্রতিপক্ষ আবদুস সোবহান ও শওকত কে সময় মোরশেদ খানকে এলাকা ছাড়া করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় ফিরে আসেন। তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। আবদুস সোবহান ও মোরশেদ খান দুজনের পৃথকভাবে রয়েছে ১৫/২০জন কিশোর গ্যাং সদস্য। শনিবার রাতে সোবহান গ্রুপের ওপর চড়াও হয় মোরশেদ খান গ্রুপ। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে আসছে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে  আতংকিত থাকেন এলাকাবাসী।