বিরোধীদলীয় নেতা বললেন

নতুন ফ্যাসিবাদের কদম কদমযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হবে

গণভোটের গণরায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। এই  কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব ইনশা আল্লাহ। এগোতে দেব না। জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গত শনিবার বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে ‘৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শপথ বাস্তবায়ন করব জুলাই সনদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সভাপতি তাসমিয়া প্রধান, আইনজীবী এসএম শাহরিয়ার কবির, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম অলিউল আনোয়ার প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়। এখন কারা নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায়। মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদিদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই প্রজন্মের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এখনও স্পষ্ট। বিরোধী দল তাদের সঙ্গে আছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু কপাল যখন মন্দ, তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো, আবার খাওয়ার চিন্তা করো না। এবার এলে ঠিকই তোমার লেজ, ঠিকই তোমার পা, ঠিকই তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।’

জামায়াতের আমির  বলেন, “বলবেন জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, তার প্রমাণ কী? ৭০ ভাগ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে এটাই তার প্রমাণ। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলাম। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আছি। আমরা দেখিয়ে যাব, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল কথা বললে মনে হয় দেশে সোনার নহর বয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তারা ভয় পায়, এর মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা হাঁ করে চেয়ে আছেন। তাদের ফসলে সেচ করবেন, কিন্তু পানি নেই। এখন আবার খোলা তেলও দেয় না। কার্ড নিয়ে আসতে বলে। তারা কার্ড আনবেন কীভাবে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় দেশ খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে বলে মন্তব্য বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য শিশুদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে গেছে। অনেকে বিপথে চলে গেছে। এখন আবার যদি একই পথে সরকার হাঁটে, তাহলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। এটা রুখে দেওয়া হবে।

জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে, অনেকে মন্ত্রী-এমপি হয়ে তাদের ভুলে গেছেন। জুলাইয়ে তরুণরা প্রাণ না দিলে এখনো লন্ডন থেকে অনেককে দল পরিচালনা করতে হতো। জুলাইকে অস্বীকার করলে দেশের মানুষ চব্বিশের মতো আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান করবে। সেই অভ্যুত্থানে জাগপা পাশে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে দিতে চায়। তারা ৫১ শতাংশ জনসমর্থন পেয়ে ৭০ শতাংশ জনসমর্থনের গণভোট বাতিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।