আরও যাচাই-বাছাই চান সরকারি দলের এমপিরা

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বিচার বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ তড়িঘড়ি বাতিল বা রহিত না করার পক্ষে মত দিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। অধ্যাদেশগুলো রহিত করার সুপারিশে জনমনে এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে আইন পাসের আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের এক সভায় তারা এই মত দেন।

সভায় জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে জানাবেন আইনমন্ত্রী। এ ছাড়া সভায় প্রধানমন্ত্রী ভুল ভ্রান্তি এড়াতে দলের সংসদ সদস্যদের পড়াশোনা করে আসার তাগিদ দেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিলÑ ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬। সম্প্রতি এই চার অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য বিল আনার সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

সভায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, এই চার অধ্যাদেশ রহিত করার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। এখন এগুলো বাতিল করা হলে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাই এগুলো সরাসরি রহিত না করে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আরও যাচাই-বাছাই ও জনমতামত নেওয়ার ওপর জোর দেন এমপিরা।

শুধু সরকারি দলই নয়, সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরাও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ হুবহু বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। জানা গেছে, বিশেষ কমিটিতে দেওয়া এক ‘নোট অব ডিসেন্টে’ জামায়াতের এমপিরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই অধ্যাদেশগুলো বিচার বিভাগকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। সংসদের প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। কোনো প্রকার ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। আমরা একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এ ছাড়া, সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অন্যান্য ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুত স্থায়ী আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে সংসদ অধিবেশনে এমপিদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দসহ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ প্রদান করেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বর্তমান সংসদীয় কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নতুন করে চাঙাভাব ও কাজের গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই চার অধ্যাদেশের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখন সবার নজর সংসদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।