শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে নীরব জয়শঙ্কর

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক তখনই সচল থাকবে যখন তা ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হবে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি। গত শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে এক অধিবেশনে তিনি বলেন, প্রতিবেশীরা কেবল ভারতের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করবে এমনটা দিল্লি প্রত্যাশা করে না। বরং উভয় পক্ষ যেখানে সাধারণ জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, সেখানেই দ্বিপক্ষীক সম্পর্ক মসৃণ হয়।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর হতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এটা তাদের জন্যও উপকারী হতে হবে, আমাদের জন্যও হতে হবে। আমি বাস্তববাদী, আমি আশা করি না প্রতিবেশীরা কেবল আমাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করবে। তারা যেমন আমাদের স্বার্থকে শ্রদ্ধা জানাবে, একইভাবে তাদের স্বার্থকেও আমাদের পর্যাপ্ত ও যৌক্তিকভাবে সম্মান করা উচিত’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘যখন উভয় পক্ষ একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, তখনই সম্পর্ক মসৃণভাবে এগিয়ে যায়। পারস্পরিকতাই আমাদের সম্পৃক্ততার ভিত্তি’।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর এটিই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো ব্যাক-চ্যানেলে আলোচনা চলছে।

গঙ্গার পানি বণ্টনে বিহারের স্বার্থ বিবেচনার আশ্বাস জয়শঙ্করের বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোচনায় এবার ভারতীয় রাজ্য বিহারের স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চুক্তিটি নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবিটি তুললে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের সদস্য বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী গত শনিবার জয়শঙ্করের আশ্বাসের বিষয়টি সেখানকার সাংবাদিকদের জানান। 

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষর হওয়া ৩০ বছরের চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজে পৌঁছানো পানি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভাগ হয়ে থাকে। গঙ্গার পানি বণ্টনের আলোচনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বহু বছর ধরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজে পৌঁছানো পানির বড় অংশই বিহারের নদী অববাহিকা এলাকা  থেকে আসে। কিন্তু পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের ব্যবহারের জন্য বিহার তার ন্যায্য অংশ পায়নি। এ বিষয়টি গঙ্গা চুক্তি নবায়নের সময় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং দেশটির পররাষ্ট্র, জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত