জাবিতে আলোর বৈষম্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও মওলানা ভাসানী হলের মধ্যে দূরত্ব সর্বোচ্চ ৩০ ফুট। হল দুটির অবস্থান পাশাপাশি হলেও রাতে বিদ্যুৎবিভ্রাট (লোডশেডিং) হলে হল দুটিতে দুই রকম অবস্থা বিরাজ করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে আলো ঝলমল পরিবেশ দেখা গেলেও মওলানা ভাসানী হলে থাকে ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলা লোডশেডিংয়ের এ রকম বিপরীত চিত্র দেখা যায়। জেনারেটর সুবিধা না থাকা হলগুলোতে লোডশেডিংয়ের সময় পড়াশোনায় বিঘœ ঘটে। নিরাপত্তা শঙ্কাসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদেরকে। সব শিক্ষার্থী একই সুবিধা না পাওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। জ্বালানি সংকটের কারণে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেলে পড়ালেখার কী হবে, তা নিয়ে তারা আতঙ্কিত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১টি আবাসিক হলের মধ্যে ১৫টি হলেই জেনারেটর সুবিধা নেই। অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ছয়টি হলে জেনারেটর সুবিধা রয়েছে। এ হলগুলো হলো নবনির্মিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, নওয়াব সলিমুল্লাহ হল, বীর প্রতীক তারামন বিবি হল, রোকেয়া হল এবং ফজিলাতুন্নেছা হল।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের বেলা লোডশেডিং হলে যেসব হলে জেনারেটর নেই অর্থাৎ পুরনো হলগুলোতে অন্ধকারে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়, পড়াশোনা বিঘিœত হয়। দিনের বেলা লোডশেডিং হলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালের প্রচ- গরমেও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ থাকায় দুঃসহ অবস্থায় থাকতে হয়। অন্ধকারে নিরাপত্তা শঙ্কাও তৈরি হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফফাত রাইসা নূহা বলেন, পুরনো হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিদ্যুৎবিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি অনুভব করি। পুরনো হলগুলোতে জেনারেটর এবং বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার সৃষ্টি হয়। ওয়াশরুম ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হয়। গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং পুরনো হলের শিক্ষার্থীদের জন্য অভিশাপের মতো। অতিদ্রুত জেনারেটর স্থাপন, পুরনো বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর সংস্কারসহ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা জরুরি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হোসাইন আলম বলেন, পুরনো হলে বিদ্যুৎ চলে গেলে না আসা পর্যন্ত অন্ধকারের মধ্যে বসে থাকতে হয়। পড়ালেখায় যে বিঘœ ঘটছে, সেদিকে কারও নজর নেই। গরমকালে লোডশেডিং বাড়লে পড়ালেখায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এই অবস্থায় প্রতিটি হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা হলে আমরা বাঁচি।

জাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব জানান, পুরনো হলগুলোতে জেনারেটর না থাকার বিষয়টি জাকসু থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, পুরনো হলগুলোতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রতি ফ্লোরে একটি করে লাইট, বিশেষ করে সিঁড়ি ও বাথরুমে আলোর ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে এতগুলো শিক্ষার্থী কোথায় যাবে। পুরনো হলগুলোকে সোলার সিস্টেমের আওতায় আনা গেলে ভালো হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলেও করিডর ও বাথরুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জরুরি আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিষয়টি তিনি আগামী প্রশাসনিক সভায় তুলবেন বলে জানান।