লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীয় সীমানার ভেতরে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
নিহত আলী হোসেন জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে আলী হোসেনসহ ৭-৮ জনের একটি দল গরু পারাপারের জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম এলাকায় টহলরত ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন নিহত হন। পরে বিএসএফ মরদেহ ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় সীমান্তের ৮৭৫ নম্বর পিলারের কাছে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। ভারতের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে এই হত্যাকা-ের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চোরাচালানিরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করায় তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেন।
নিহত আলীর বড় ভাই আব্দুল মালেক জানান, গভীর রাতে বিএসএফের গুলিতে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর তারা শুনেছেন, তবে কেন এবং কীভাবে তিনি সেখানে গেলেন সে সম্পর্কে তারা জানেন না।
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘সীমান্তে গুলি করে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।’