প্রাচীনকালে মানুষ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া, ম্যাগনেটাইট পাথর ব্যবহার করে দিক নির্ণয় করত। কারণ এটি লোহার টুকরাকে আকর্ষণ করতে পারত। যাদের এই ধরনের ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়, তাদের প্রায়ই ‘মানব চুম্বক’ বলা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন তারা অন্যান্য পদার্থ যেমন কাচ, চীনামাটির বাসন, কাঠ বা প্লাস্টিকের পাশাপাশি পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ফেরোচৌম্বক বৈশিষ্ট্যযুক্ত ধাতুকে আটকে রাখতে সক্ষম। যে সমস্ত লোক তাদের দেহে চুম্বকত্বের দাবি করে, তাদের মধ্যে অনেকে কেবল ধাতু দিয়েই নয়, অধাতব বস্তুও শরীরে আটকে রাখতে পারে। এর ফলে বোঝা যায়, চুম্বকত্বের মাধ্যমেই ঘটনাটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। স্কেপটিক বেঞ্জামিন র্যাডফোর্ড একজন মানব চুম্বক বলে দাবি করেছেন। এর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি একটি কম্পাস ব্যবহার করেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, ব্যক্তিটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব ব্যক্তির সাধারণত মসৃণ এবং লোমহীন ত্বক থাকে এবং কিছুটা পেছন দিকে ঝুঁকে থাকে। জেমস রেন্ডিসহ অনেক বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞানের সমর্থকরা দাবি করেন যে, এই ক্ষমতাটি ঘর্ষণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। বিষয়টি অস্বাভাবিক চটচটে ত্বকের কারণে ঘটে। জেমস রেন্ডি প্রমাণ করে দেখান, শরীরে ট্যালকম পাউডার লাগানো হলে, তাদের ক্ষমতা লোপ পায়।