রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার ও মন্ত্রিপরিষদের কলেবর বৃদ্ধি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের কঠিন সময়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের ব্যবধানে এবারই প্রথম সংঘবদ্ধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সরকারি ও বিরোধী দল দুই পক্ষ থেকেই প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং অনেক বেশি ভোট পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন, যা আগেই অনুমেয় ছিল। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চম জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। অন্যদিকে, বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। এবার বিএনপি জোটের পক্ষে প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর বিরোধীদলীয় জোট থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এটি ছিল দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও প্রকাশ। বিশেষত এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির শক্তি, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এসব বিষয়ও যে আগামী দিনে গুরুত্ব পেতে পারে তার ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি। ২২ আগস্ট সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। 

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন করে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে ৫২-তে দাঁড়িয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের শূন্য হয়, সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ের আগের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে। গত জুনে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর এ পদটি শূন্য ছিল। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আগের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রলালয় দুজন প্রতিমন্ত্রী পেল। পররাষ্ট্র মন্ত্রলালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর   দায়িত্বে রয়েছেন খলিলুর রহমানই। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তার দায়িত্বভার গ্রহণ এবং এরই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের রদবদল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৬ মাস অতিক্রান্তে আরেকটি নতুন অধ্যায়।  

ফিরে তাকাই পেছনে। স্বাধীনতার পর তিনটি ভিন্ন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। প্রাথমিক পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক সামরিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ে সংশোধিত পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা। প্রথম পর্যায়ে (১৯৭৩-৭৬) রাষ্ট্রপতি সংসদীয় প্রণালি অনুযায়ী একটি সম্মানজনক জায়গায় অবস্থান করলেও তার ভূমিকা ছিল সীমিত। তবে ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম চালু হলে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নির্বাচিত হন এবং শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতা পান। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ পুনরায় পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় ফিরে আসে এবং রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানান্তরিত হয়। ওই বছর অক্টোবরে প্রথম সংঘবদ্ধ পার্লামেন্টারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আসে স্থবির এক সময়, যা গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্যও শোভন ছিল না। ১৯৯৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রধানত রূপকীয় এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উল্টোপথে যাত্রা করেছে বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি এমন হয়ে গিয়েছিল যে, যারা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পেতেন তারা শুধু সম্মানটুকুর জন্যই দায়িত্বে আসতেন। তখন হাস্যরস করেও অনেককে বলতে শোনা গেছে, ‘রাষ্ট্রপতির কাজ বাংলাদেশে বিশিষ্ট দিনে কবর জিয়ারত করা আর না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে চটুল বক্তব্য দেওয়া।’ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও গুরুত্ব যে কতটা তা আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যক্ষ করেছি। রাষ্ট্রপতি শুধু একজন ব্যক্তি নন। পদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ও রাষ্ট্রের প্রতীক। তবে বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য গড়ার দিকে মনোযোগ কমই দেওয়া হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায়িত করার আলোচনা ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত ভারসাম্য গড়ার পথ তৈরি করা হয়েছে বলেই মনে করি। 

রাষ্ট্রপতি বিচারকদের অনুমোদন, সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ, রাষ্ট্রপক্ষীয় চুক্তি অনুমোদন এবং ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা রাখেন। এগুলো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নয়। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল বেশি। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে মনোনীত প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই নির্বাচিত হন। তবে রাষ্ট্রপতি পদটির ক্ষমতায়নে ভারসাম্যের এখনো অভাব রয়েছে। সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। কারণ দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের মনে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তা নিয়ে আগ্রহ তেমন ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তন ঘটেছে। এখন সংসদ অধিবেশন এমনকি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও প্রত্যাশার খবর সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান রাজনৈতিক কারণে দেশে অবস্থান করতে পারেননি। ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলকে সংগঠিত ও চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় সংকট ও সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে তার এ অভিজ্ঞতা অনেক কাজে আসবে। বিশেষত এমন অভিজ্ঞজন রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও নীতিপরামর্শের ভারসাম্য তৈরি হবে আশা করি। কিন্তু আমাদের মূল মনোযোগ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের দিকে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় অবধারিতভাবেই দলটির পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সহজ ছিল। বিরোধীদলীয় জোট মূলত গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্যই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। এমনটি আমাদের গণতন্ত্রের জন্যও ইতিবাচক।

উল্লেখ করি ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের উদাহরণ যা খুব প্রাসঙ্গিক। এটি একটি অনন্য আধা-রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক এবং আধা-পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত একমাত্র তিনিই নিতে পারেন। তিনি সরাসরি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারকে জাতীয় পরিষদের আস্থা অর্জন করতে হয়। ফ্রান্সের সাংবিধানিক আইন সীমিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি ক্ষমতা দেয়, কিন্তু এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয় সাংবিধানিক পরিষদের অনুমোদনের সঙ্গে এবং পার্লামেন্টারি নিয়ন্ত্রণের অধীন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শক্তিশালী নির্বাহী প্রধান। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার এবং বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি ভারসাম্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে যা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির অনেক সিদ্ধান্ত অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। কর পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ এবং সামরিক ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভেটো দিতে পারেন, কিন্তু কংগ্রেস দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই ভেটো অতিক্রম করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে এবং সংবিধানবিরোধী বলে ঘোষণা করতে পারে। এই সর্বব্যাপী চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে যদিও রাষ্ট্রপতি শক্তিশালী, তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন নন। বাংলাদেশ, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র তিনটি সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন রাষ্ট্রপতিব্যবস্থা অনুসরণ করে। তবে একটি মূল সমান্তরাল হলো যে প্রতিটিই ক্ষমতা বণ্টন এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার একটি প্রতীক। এটি প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিনির্ভর নয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য আরও অনেক কাজ রয়েছে। পার্লামেন্টারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করতে হবে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সততা। আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি। ৬ মাস অতিক্রান্তে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মনোযোগ আরও গভীর করবে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসনসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে স্বস্তি নিশ্চিত করতে হবে।  

লেখক : জনপ্রশাসন ও রাজনীতি বিশ্লেষক। সাবেক উপাচার্য, শাবিপ্রবি ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে অধ্যাপনারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত