জেদ্দার বিখ্যাত মসজিদ আর-রাহমা। এখানে প্রতি মাসের প্রথম সোমবার ‘মাই মসজিদ’ নামের একটি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের হৃদয়ে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় মসজিদের বাইরের চত্বরটিকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক সংযোগের একটি প্রাণকেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। মূলত কোমলমতি শিশুদের মসজিদের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের মনে এই স্থানটি নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
আয়োজনটির পুরো পরিচালনা পদ্ধতি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘মসজিদ ফ্রেন্ডস মিটিং পয়েন্ট’-এ নিবন্ধনের পর তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি টেবিলে ৮ জন শিশুর জন্য একজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকেন। এই ছোট ছোট দলগুলোতে চলে বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম। চিত্রাঙ্কন এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিশুদের মসজিদের আদব-কায়দা শেখানো হয়। মসজিদে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা, অন্যদের অভিবাদন জানানো এবং নামাজের পরের দোয়াগুলো পাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা হাতে-কলমে শেখে। চলতি মাসের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ কুবা সম্পর্কে তথ্য।
এই আয়োজনের উদ্যোক্তা হানিন সালেহ কামেল আরব নিউজকে জানান, বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত আবেগঘন। তার প্রয়াত বাবা ১৯৮৬ সালে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। স্থাপত্যশৈলীর জন্য এই মসজিদটি বিখ্যাত হলেও তার বাবার স্বপ্ন ছিল একে একটি প্রাণবন্ত সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত করা। সেই স্বপ্ন থেকেই হানিন ও তার পরিবার ‘মাই মসজিদ’ কার্যক্রম চালু করেন। তিনি মনে করেন, শিশুরা যদি শৈশব থেকেই মসজিদের সঙ্গে একটি আবেগীয় সংযোগ অনুভব করে, তবে বড় হয়েও তারা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। কেবল পড়াশোনা নয়, শিশুদের আকৃষ্ট করতে সেখানে রয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জুস, চকোলেটে মোড়ানো স্ট্রবেরি, আইসক্রিম এবং কফির স্টল দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো চত্বর। পাশাপাশি শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গেমস ও বিনোদনের ব্যবস্থা। তবে জনপ্রিয় এই কেন্দ্রে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।
খাবার সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বশীল লায়লা ঘুরাইব জানান, দর্শনার্থীদের চাপে অনেক সময় খাবার দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তবুও তারা শিশুদের জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট সংখ্যক খাবার সংরক্ষণ করেন। স্বেচ্ছাসেবীরা স্টল থেকে খাবার সংগ্রহ করে সরাসরি শিশুদের টেবিলে পৌঁছে দেন, যাতে তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট কর তে না হয়।
এই উদ্যোগটি গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষিকা নুর বাজনাইদ বলেন, শিশুদের সঙ্গে কাজ করাটা তাদের নিজেদের জন্যও একটি শিক্ষার সুযোগ। অনেক শিশু প্রতি মাসে নিয়মিত এখানে আসে এবং তারা একে অপরের ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সমাজসেবক স্যামুয়েল শ্রপশায়ারের মতে, এই কর্মসূচি শিশুদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।