মহাবিশ্বের বিস্ময়

পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায়,  ৯৩ বিলিয়ন লাইট ইয়ার্স। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর এই ছোট্ট কোণে বসে মানুষ কীভাবে এমন অসীম বিস্তৃতির আয়তন মাপল? এ বিশাল সংখ্যার পেছনে আছে আলো, সময়, প্রসারণ আর অবিশ্রান্ত কৌতূহলের এক জটিল গল্প। প্রথমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশে^র আলোকে বুঝেন। দূর নক্ষত্রের আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই সময়ই লাইট ইয়ার দূরত্বের পরিমাপ। মানুষ তখনো জানত না, মহাবিশ্ব স্থির নাকি চলমান। যতক্ষণ না ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল গ্যালাক্সিগুলোর আলো পরীক্ষা করে দেখালেন, তারা দূরে সরছে। এ আবিষ্কার যেন প্রথমবার মানুষের সামনে এলো,  প্রসারমাণ মহাবিশ্ব। এরপর আরেক বিস্ময়, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড। আলোর যাত্রাপথ যত দূর থেকে আসুক, সেই পথ নিজেই সময়ের সঙ্গে লম্বা হতে থাকে। এই প্রসারণের গতি সাধারণ গতির মতো না। এটি স্থানকাঠামোর প্রসারণ, যার কোনো সীমা নেই। তাই যে আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে আসছে, তার উৎস আজ সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে, প্রায় ৪৬.৫ বিলিয়ন লাইট ইয়ার্স দূরে। ফলে সামগ্রিক ব্যাস ধরা হলো ৯৩ বিলিয়ন লাইট ইয়ার্স। মহাবিশ্ব তার জন্মের আলো থেকে বহু গুণ বড়। আমরা যতদূর দেখতে পাই, তার সীমা হলো আমাদের ‘হরাইজন’, মহাবিশ্বের নয়।  বরং সেটি আমাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার সীমা। কিন্তু আলো এখনো পথে রয়েছে।  আমরা সেই অংশ দেখি না। আমরা যে মহাবিশে^র কাছে কত ক্ষুদ্র, তা বুঝি না। কিন্তু  মস্তিষ্ক তার পরিধি ছুঁয়ে দেখার ক্ষমতা রাখে। যদি গভীরভাবে বিবেচনা করি, তাহলে এটাই সভ্যতার সুন্দর আলো।