দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্য পেছালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের’ কথা উল্লেখ করে গত শুক্রবার আদালতে তার পক্ষে এই আবেদন দাখিল করে এক আইনজীবী। আজ রবিবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। গত বুধবার ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলে জারিকৃত জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার শুনানির পথ খুলে যায়। জেরুজালেম জেলা আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত গোপনীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী আগামী অন্তত দুই সপ্তাহ এই আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন না। এতে আরও বলা হয়, গোপনীয় কারণগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি সিলমোহরযুক্ত খাম আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন তাদের জবাব দেওয়ার পর আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইসরায়েলের ইতিহাসে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন নেতানিয়াহু। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ, জালিয়াতি এবং আস্থাভঙ্গের অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালে শুরু হওয়া নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই বিচার প্রক্রিয়া বিভিন্ন কারণে বারবার বিলম্বিত হয়েছে। একের পর এক যুদ্ধবিগ্রহের অজুহাতে বারবার শুনানির দিনক্ষণ পেছানোর আবেদন করেছে নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগ ও ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। জনমত জরিপ বলছে, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি নেতানিয়াহুর জোট সরকারের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রবল। এই মামলার ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দিতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে চাপপ্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুকে ক্ষমার অনুরোধ জানিয়ে হারজগকে চিঠিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর জবাবে ইসরায়েলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে ইরান। নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং ইসলামি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। তবে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলার কারণে এ যুদ্ধবিরতি এখন হুমকির মুখে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।