তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি অপতথ্য (মিসইনফরমেশন) ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের (ডিসইনফরমেশন) বিস্তার রোধ করে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ গতকাল রবিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’-এর কোর গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন অধ্যাদেশ স্থগিত রাখার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে অপতথ্যের প্রচারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’
‘শুধু তথ্যের প্রবাহ বাড়ালেই চলবে না’ এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে একটি কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন।
রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোই পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হতে হবে : পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল রবিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ, বিয়ন্ড বর্ডারস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ১৩টি ব্যাংক, একটি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তির হাতে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় দুটি উৎস হলো তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এ কারণে পররাষ্ট্রনীতিতে এসব খাতকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ৮ থেকে ১০টি দেশে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করা হয়েছে। প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি সমস্যায় পড়লে যেন সহজে আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য যেন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।