অবিশ্বাস্য

চঞ্চল ঘাসফড়িং

ঘাসফড়িং ধরা খুব কঠিন। একটু শব্দ হলেই তারা উড়ে যায়। কারণ, তাদের কান মাথায় নয়। সেটি পেটের দুই পাশে, ডানার ঠিক নিচে। এই বিশেষ শ্রবণ অঙ্গটিকে টাইম্পানাল অর্গান (Tympanal organ) বলা হয় যা শব্দতরঙ্গ প্রতিক্রিয়ায় কাঁপে এবং সঙ্গীদের ডাক শুনতে সাহায্য করে। অনেকে মনে করেন ঘাসফড়িংয়ের কান পায়ে থাকে। আসলে কানগুলো থাকে, পেটের পেছনের পায়ের গোড়ার কাছে। এই শ্রবণ অঙ্গের কারণেই ঘাসফড়িং খুব দ্রুত বিপদ সংকেত পায় এবং তাদের শক্তিশালী পেছনের পা ব্যবহার করে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। National Geographic এর ডকুমেন্টারি অনুযায়ী, ‘ঘাসফড়িং এবং পঙ্গপাল সবার  knee-ears  আছে। যেগুলো এক মিলিমিটারের মাত্র একটি ভগ্নাংশ, প্রাণিজগতের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কানগুলোর মধ্যে একটি। মানুষের কান প্রতি সেকেন্ডে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ স্পন্দন বা Vibrations পর্যন্ত ধরতে পারে। কীটপতঙ্গ জাত মানুষের চেয়ে অনেক সংবেদনশীল। সাধারণত একটি ঘাসফড়িং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস বাঁচে। মূলত তাদের আয়ুষ্কাল প্রজাতি এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। তবে তা বছরের বেশি নয়।  ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ে রূপান্তর হতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ। কিছু প্রজাতি, মিলন ও ডিম পাড়ার পরই মারা যায়। তবে সব প্রজাতির ক্ষেত্রে তা হয় না।