চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় তখনকার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন এক সাক্ষী। ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে হত্যাকা- ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) এ কর্মকর্তা জবানবন্দি দেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে আদালত। নিরাপত্তার স্বার্থে বিটিআরসির উপপরিচালক পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এ মামলার অপর আসামি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গত ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। দুজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে বিচার হচ্ছে। মামলার দুই আসামি পলাতক।
বিটিআরসির কর্মকর্তা জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান টেলিফোনে তাকে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক সংস্থার চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে মহাপরিচালক তাকে বলেন।
সাক্ষী বলেন, “কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ওই নির্দেশনা ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের অবহিত করার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে আমাকে নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার অফিসিয়াল মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘এইটিন জুলাই আইসিটি অপারেশনস’ নামে একটি গ্রুপ খুলি। কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেডের খালিদ, ফাইবার অ্যাট হোমের মশিউর, নভোকমের আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএলের আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসির ওহাবের সমন্বয়ে ওই গ্রুপটি খোলা হয়।”
তিনি বলেন, ‘এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি খোলার পর আমি ওই গ্রুপেই আমাদের মহাপরিচালককে বিষয়টি অবগত করি। এরপর তিনি একটি গ্রুপ কল করেন। গ্রুপ কলে তৎকালীন মহাপরিচালক ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা অবহিত করেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আনুমানিক রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
জবানবন্দিতে সাক্ষী আরও বলেন, আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) অপারেটরদের সমন্বয়ে পূর্বে গঠিত একটি গ্রুপে তৎকালীন মহাপরিচালক আমাকে একটি এসএমএস করার নির্দেশনা দেন। এসএমএসটি ছিল ‘এসপার দ্য ইনস্ট্রাকশন আই এম ডাইরেক্টেপ টু ইনফরম ইউ টু শাটডাউন দ্য ইন্টারনেট ফ্রম ইউর আইআইজি অ্যান্ড সেন্ড ডান আফটার কমপ্লিশন।’ এই এসএমএসটি ইন্টারনেট বন্ধ করার পূর্বেই নির্দেশিত হয়ে অবহিত করা হয়। এরপর ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ১৮ জুলাই রাত ৯টা থেকে ২৩ জুলাই বিকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে।