আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন চার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর তিনজনই। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা। এতে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. মো. আলী আফজাল, মোকাররম হোসাইন খান এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. আবুল খায়ের সেলিম।
তিন প্রার্থীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ প্যানেলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. আলী আফজাল। তিনি বলেন, রিহ্যাব নির্বাচন স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ করার জন্য কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোয় কর্ণপাত করছে না বিধায় আমরা আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত কয়েক দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো প্রথমত সকল প্রার্থী/পোলিং এজেন্টকে ভোটগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যালট পেপারের বই, সংখ্যা ও নাম্বার এজেন্ট/প্রার্থীগণের সামনে যাচাই করতে হবে।
তাদের দাবি, ভোটাররা ব্যালট নেওয়ার সময় স্বাক্ষর ও টিপসইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোট কাস্টিং শেষ হলে ভোট ব্যালট বইয়ের মুড়ি এজেন্ট ও কমিশনারের স্বাক্ষর করা ও এজেন্টদের টিক দেওয়া সংখ্যা মিলে কাস্টিং ভোট কত হলো, তা নির্ধারণ করা। ভোট গণনার পূর্বে ব্যালট গণনা করে সংখ্যা মিলিয়ে নিতে হবে। কত ভোট কাস্টিং হলো এবং কত ভোট ব্যালট বাক্সে পড়ল অর্থাৎ কাস্টিং এবং ব্যালট বাক্সের ভোটের কোনো তারতম্য আছে কিনা, দেখতে হবে। গণনা শেষ করে রেজাল্ট শিটে ইলেকশন কমিশন এবং উপস্থিত এজেন্টদের স্বাক্ষর করতে হবে। ভোট কেন্দ্রে সকল জায়গায় সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভেতরের সিসি ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ বাহিরে প্রজেকশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোট গণনার পর ব্যালট নষ্ট না করে সংরক্ষণ করতে হবে, যা প্রয়োজনে পুনঃগণনা বা ভেরিফাই করার জন্য ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
নির্বাচনের ফল এক মাস স্থগিত থাকবে : হাইকোর্ট
আগামীকাল ১৮ এপ্রিল রিহ্যাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটের ফল এক মাস স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার সরকার।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৮ এপ্রিল রিহ্যাবের নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু সেটা একটা পাতানো নির্বাচন হচ্ছিল। কারণ ৩৬ শতাংশ সদস্য ট্যাক্স রিটার্ন না দিয়ে ভোটার হয়েছেন। অথচ বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি সদস্যের হালনাগাদ রিটার্ন জমা দেওয়া এবং হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
আদালতের আদেশের বরাতে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘হাইকোর্ট রুল দিয়ে বলেছেন, শনিবার রিহ্যাবের যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে। এনবিআর একজন যুগ্ম কমিশনার দিয়ে একটি তদন্ত করবে, কোন কোন সদস্য রিটার্ন দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন দেখার পরে আদালত যদি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে পারবে।’ তিনি বলেন, এই এক মাস নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকলেও এই সময় প্রশাসক দিয়ে রিহাবের কার্যক্রম চালানো যাবে বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।