রোদ ঝলমল দিনে টপসে থাকুন কুল

গরমের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বস্তি, স্টাইল আর ব্যবহারিকতা এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্ব পায়। তাপমাত্রা যতই বাড়ুক নিজেকে প্রান্তবন্ত ও স্টাইলিশ রাখতে টপস হতে পারে স্মার্ট সমাধান। হালকা, আরামদায়ক এবং বহুমাত্রিক ডিজাইনের কারণে টপস গরমের ফ্যাশনে নির্ভরযোগ্য নাম। টপসের হালচাল জানালেন মোহসীনা লাইজু গরমে সবারই উচিত বাইরে বের হওয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরা।  এই পোশাক যত লুজ ফিটিং হয় ততই ভালো। ঢিলেঢালা পোশাকের ভেতর দিয়ে খুব সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। অনেকেই ভাবেন ঢিলেঢালা পোশাকে নিজেকে বেমানান লাগে। যা মোটেও ঠিক নয়। ঢোলা বা ওভারসাইজ  টপস এই গরমের পোশাক হিসেবে ট্রেন্ড তৈরি করেছে। একটা টপস স্টাইল করে নানাভাবে পরা যায়।

গরমে কেন টপস পরবেন

গরমে ঢিলেঢালা, বাতাস চলাচল করে এমন পোশাকই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। টপসের বড় সুবিধা হলো এগুলো সাধারণত লাইটওয়েট, শরীরের সঙ্গে লেপ্টে থাকে না এবং সহজে ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া টপসের বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখিতা। একটা টপস জিনস, লেগিংস, পালাজ্জো কিংবা স্কার্ট সব কিছুর সঙ্গেই পরতে পারেন।

টপসের ধরন

বর্তমানে টপসের ডিজাইনে এসেছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। এখন যে ধরনের টপস মেয়েরা বেছে নিচ্ছেন তাহলো ওভারসাইজড টপস, ক্রপ টপস, পেপলম টপস, কুর্তি স্টাইল টপস, টিউনিক টপস, অফ-শোল্ডার বা কোল্ড শোল্ডার টপস। বিশেষ করে ওভারসাইজড এবং টিউনিক টপস গরমে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এগুলো আরামদায়ক এবং ট্রেন্ডি দুটোই একসঙ্গে দেয়। যার ফলে কলেজ থেকে শপিং কিংবা দাওয়াত সবখানেই আরামদায়ক। টপসের ডিজাইনের ক্ষেত্রে ফিউশন ট্রেন্ড বেশ জোরালো। ওয়েস্টার্ন কাটের সঙ্গে দেশীয় মোটিফের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে প্রচুর। যেমন ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড পেইন্ট, এমব্রয়ডারি নকশা, টাই-ডাই ও ফ্লোরাল প্রিন্ট। এ ছাড়া মিনিমাল ডিজাইনও এখন বেশ জনপ্রিয়। খুব বেশি ভারী কাজের বদলে সিম্পল কাট, ছোটখাটো ডিটেইলি এ ধরনের টপস এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

টপসের রঙ

গরমে পোশাকের রঙ নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেসব রঙ বেছে নেওয়া ভালো হবে তাহলো সাদা, হালকা নীল, প্যাস্টেল পিংক, মিন্ট গ্রিন, ল্যাভেন্ডার, লেমন ইয়েলো।

এ ছাড়া প্রিন্টেড টপসের ক্ষেত্রে মাল্টিকালারও বেশ জনপ্রিয়। গরমের অনেকের কাছে চেক ও পলকা ডটের টপসও উপযোগী। গাঢ় রঙ এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো বেশি তাপ শোষণ করে।

টপসের কাপড়

গরমে টপসের কাপড়ের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভুল কাপড় হলে যতই সুন্দর হোক, তা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

গরমের জন্য সবচেয়ে ভালো কাপড়গুলো হলো কটন, লিনেন, খাদি, রেয়ন ও ভিসকস এই কাপড়গুলো ঘাম শোষণ করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে। বিশেষ করে কটন ও লিনেন গরমের জন্য একদম আদর্শ। সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো ঘাম আটকে রাখার পাশাপাশি শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে।

কোথা থেকে কিনবেন

অধিকাংশ ফ্যাশন হাউজ থেকেই আপনি টপস কিনতে পারবেন। এ ছাড়া  ঢাকার নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন ট্রেন্ডি টপসের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কাপড় ও সাইজ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

দাম কেমন হবে

টপসের দাম নির্ভর করে কাপড়, ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডের ওপর। সাধারণত সুতির টপস কিনতে পারবেন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিজাইনার বা বুটিক টপস পাবেন  ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। ব্র্যান্ডেড টপস কিনতে পারবেন ১৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে মূল্যছাড় ও  অনলাইন অফারে ভালো মানের টপস কম দামে পাওয়া যায়। চাইলে পছন্দমতো কাপড় কিনে ইনস্টাগ্রাম বা অনলাইন পেজের ডিজাইন দেখে দর্জি দিয়ে বানিয়েও নিতে পারবেন। দাম একটু বেশি হলেও সবার থেকে আলাদা হবে।

টপসের সঙ্গে কী মানায়

টপসের সুবিধা হলো সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যদি ক্যাজুয়াল লুক চান, তবে টপসের সঙ্গে জিনস বেছে নিতে পারেন অনায়াশেই। এ ছাড়া লং লেন্থে টপসের জন্য লেগিংস পরতে পারেন। একদিকে যেমন আরামদায়ক তেমনি সিম্পল স্টাইলও থাকবে। ফিউশন লুক দিতে চাইলে টপসের সঙ্গে পালাজ্জো পারফেক্ট হবে। পার্টি গেট টুগেদারের জন্য স্কার্টের সঙ্গে টপস দিতে পারবে আপনাকে ফেমিনিন ও স্টাইলিশ লুক। এভাবে একটা টপস দিয়ে আপনি ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল তৈরি করতে আপনার সাজপোশাকে বহুমাত্রিকতা নিয়ে আসতে পারবেন।

প্রিয় অনুষঙ্গ

গরমের জন্য হালকা ও মিনিমাল অনুষঙ্গই ভালো।  এক্ষেত্রে কোথায় যাচ্ছেন এবং কেমন লুক চাচ্ছেন এটা খুব জরুরি। ছোট ইয়াররিং বা স্টাড, সিøং ব্যাগ বা টোট ব্যাগ, সানগ্লাস, সিম্পল ব্রেসলেট, স্যান্ডেল বা স্নিকার। ভারী গহনা এড়িয়ে চলাই ভালো।