গ্রীষ্মের দাবদাহে বাইরে বের হওয়া মানেই শরীর ও ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ। প্রখর রোদ, ঘাম, ধুলাবালি সব মিলিয়ে এ সময়ে নিজেকে সুস্থ ও ত্বককে সুরক্ষিত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। গরমের এ সময়টাতে দিনের বেলা ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখা অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। এতে যেমন স্বস্তি বাড়ে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিও কমে।
প্রথমেই বলতে হয় সানস্ক্রিনের কথা। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা পরপর আবার লাগানো উচিত। সঙ্গে ছোট সানস্ক্রিনের টিউব রাখলে যেকোনো সময় তা ব্যবহার করা যায়। গ্রীষ্মে সানগ্লাস ও ছাতা যেন আপনার নিত্যসঙ্গী হয়। সানগ্লাস চোখকে সূর্যের তীব্র আলো ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে, আর একটি ছাতা সরাসরি রোদ থেকে মাথা ও ত্বককে সুরক্ষা দেয়। বিশেষ করে দুপুরের সময় বাইরে থাকলে এই দুটি জিনিস অত্যন্ত কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করা গরমকালে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। সবসময় একটি পানির বোতল সঙ্গে রাখা উচিত। চাইলে লেবু পানি বা স্যালাইন সঙ্গে রাখা যায়। যা শরীরের পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করে। অনেকেই আছেন কাজের ব্যস্ততায় পানি পান করতে ভুলে যান। তাই চেষ্টা করুন পানির বোতলটি চোখের সামনে এবং বাইরে বের হলে ব্যাগের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করবেন। ঘাম ও ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে টিস্যু, ভেজা ওয়াইপস বা ছোট তোয়ালে সঙ্গে রাখতে পারেন। এগুলো দিয়ে মুখের ঘাম মুছে ফেলা যায়, যা ত্বককে ফ্রেশ
রাখে এবং ব্রণ বা র্যাশ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। গরমে ত্বক ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। তাই একটি লিপবাম ও ময়েশ্চারাইজার সঙ্গে রাখা উচিত। এগুলো ত্বককে হাইড্রেটেড এবং রোদে পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া একটি ছোট হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা এ সময় অত্যন্ত জরুরি। বাইরে বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার রাখা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে একটি অতিরিক্ত মাস্কও রাখতে পারেন, বিশেষ করে ধুলাবালি বা দূষণ বেশি থাকলে। গরমে পোশাকের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া উচিত, আরামদায়ক থাকার জন্য হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং একটি ছোট ব্যাগে এসব প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করাও জরুরি। এই ছোট ছোট প্রস্তুতিই আপনাকে গ্রীষ্মের কষ্টকর আবহাওয়ায়ও সতেজ, আত্মবিশ্বাসী ও সুস্থ রাখবে। সচেতনতা ও সামান্য প্রস্তুতিই পারে গ্রীষ্মকালকে আরামদায়ক করে তুলতে।