উড়োজাহাজের লাইসেন্স পেল আকিজ বশির অ্যাভিয়েশন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই উড়োজাহাজের লাইসেন্স পেতে নানা উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল আকিজ বশির গ্রুপ। এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপদেষ্টার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান পদে তার বসা নিয়েও সমালোচনা হয় ওই সময়। বিএনপি সরকার গঠন করার পর বশিরউদ্দীন চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে উপদেষ্টা ও চেয়ারম্যানের পদে না থাকলে বিমান ও অ্যাভিয়েশন খাতে তার প্রভাব এখনো কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রভাব খাটিয়ে উড়োজাহাজের লাইসেন্স নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তার প্রতিষ্ঠানকে উড়োজাহাজের লাইসেন্সের অনুমোদন দিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, গত বছর আবেদনের প্রেক্ষিতে আকিজ বশির অ্যাভিয়েশনকে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। গত বছরের ১১ মার্চ আকিজ বশির অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের নামে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়, লাইসেন্স নং-ডিএনসিসি-০৩৯৯১৭। আবেদন করার সময় জমা দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সের কপিতে লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত। এ ছাড়া গত বছরের মার্চ মাসে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস বাংলাদেশে আবেদন করে আকিজ বশির অ্যাভিয়েশন।

গত বছর বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকার সময় ১৫ এপ্রিল শেখ বশিরউদ্দীনকে দুই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর গত ২৬ আগস্টে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন শেখ বশিরউদ্দীন। গত বছরের এপ্রিলে বিমান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই বেবিচকে আকিজ বশির অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এই আবেদন করেন তিনি। মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্বে থেকে নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে তার এই নিয়োগ নিয়ে অনেকেই তখন প্রশ্ন তোলেন।

 বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আকিজ বশির অ্যাভিয়েশনকে লাইসেন্স না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বেবিচকের তিন শীর্ষ কর্তাকে বদলি করতে চিঠি দেন তৎকালীন বাণিজ্য ও বিমান উপদেষ্টা। তখন সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাহিদানুযায়ী সব কাগজপত্র দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও তিনি লাইসেন্স দিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ মহলকে অবহিত করলেও কোনো কাজ হয়নি। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও একইভাবে তিনি চাপ প্রয়োগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে আজ (গতকাল রবিবার) লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়। আমরা যতটুকু জেনেছি চলতি বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করার কথা রয়েছে নতুন এই অ্যাভিয়েশন গ্রুপটির।

গত বছর সমালোচনার মুখে শেখ বশিরউদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমিই প্রথম কোনো উপদেষ্টা হিসেবে বিমানের চেয়ারম্যান হইনি। আমার আগে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এই দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন। আমি ২৩তম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছি।’ শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেছিলেন, ‘আমার একটি মাত্র হেলিকপ্টার আছে, যার কোনো পাখা নেই। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এ জন্য আকিজ বশির অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে কমার্শিয়াল লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে ১১ মাস আগে। আমি ওই কোম্পানির মেজর শেয়ারহোল্ডার হওয়া সত্ত্বেও এখনো লাইসেন্স পাইনি। অথচ আমার কোম্পানির পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, হ্যাঙ্গারসহ সবকিছুই প্রস্তুত। আমি প্রভাব বিস্তার করলে তো অনেক আগেই লাইসেন্স পাওয়ার কথা ছিল।’

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে গতকাল শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।