মানুষের নামের গুরুত্ব অনেক। দুনিয়ায় নামের দ্বারা মানুষকে আহ্বান করা হয়। পরকালেও মানুষকে যার যার নামের দ্বারা আহ্বান করা হবে। তাই সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা জরুরি। একটি সুন্দর নাম যেমন মানুষের অলংকার, তেমনি একটি মন্দ উপনাম তার হৃদয়ের গভীরে ক্ষতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ আমরা অনেক সময় অসতর্কভাবে কিংবা সামান্য আনন্দের জন্য অন্যকে এমন সব মন্দ ও বিকৃত নামে আহ্বান করি, যা তার সম্মানকে ধূলিসাৎ করে দেয়। কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করা বা বিদ্রুপাত্মক নামে ডাকা কেবল শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ নয়, বরং এটি একটি অন্যকে আঘাত করার নামান্তর। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেক না। ইমান আনার পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা হুজরাত ১১) এই আয়াত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে শুদ্ধ ও সুন্দর করার এক গভীর নির্দেশনা।
ইসলাম আমাদের শেখায়, ইবাদত যেমন রুহের খোরাক, তেমনি সুন্দর আচরণ সম্পর্কের অলংকার। একজন মুমিনের ইমানের দীপ্তি তার ভাষার মাধুর্যে প্রতিফলিত হয়। রসিকতা বা অবজ্ঞার ছলে কাউকে কটু নামে ডাকা প্রথমে তুচ্ছ মনে হলেও, তা ধীরে ধীরে ব্যক্তির আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, একটি কটু শব্দ বা নাম কারও মনে আঘাত দিতে পারে। ইসলাম আমাদের শেখায়, ভাষা যেন হয় বারিধারার মতো স্নিগ্ধ, যা মানুষকে সিক্ত করবে, দগ্ধ নয়।
আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের নাম ধরে ডাকার ক্ষেত্রেও যে মাধুর্য মিশিয়ে দিতেন, তা শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে ভালোবাসার জোয়ার বইয়ে দিত। তার সম্বোধন ছিল সম্মানের, তার ডাক ছিল ভালোবাসার।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষকে তাদের এবং তাদের পিতার নাম নিয়ে ডাকা হবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, তার জন্য এবং তার সন্তানের জন্য সুন্দর নাম রাখা।’ এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে। নাম কেবল দুনিয়ার পরিচয় নয়, এটি আখেরাত পর্যন্ত বিস্তৃত এক পরিচয়ের ধারক। তাই নাম উচ্চারণ হোক শ্রদ্ধায়, সম্বোধন হোক মর্যাদায়। কারণ একটি সুন্দর ডাকও হতে পারে ইবাদতের অংশ, আর একটি কটু শব্দও উচ্চারণও হতে পারে গুনাহের কারণ।
আজকের ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ যেন এক স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সুরা হুজরাতের শিক্ষা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তাই হাসির ছলেও নেটদুনিয়া কিংবা সমাজজীবনে কাউকে বিদ্রুপাত্মক নামে ডাকা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক