ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি অলরাউন্ডার সমিত প্যাটেল এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের গোয়ায় একটি ‘অননুমোদিত’ টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নেওয়ায় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তাকে এই শাস্তি দেয়।
৪১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসবে জানলে তিনি সেই লিগে খেলতেন না। বিবিসির এক অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “জানলে হয়তো আমি ওই লিগে খেলতাম না। অনেক অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে
চলতি বছরের শুরুতে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লিজেন্ডস প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ’-এ খেলেছিলেন প্যাটেল। ইসিবির নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো ডিসঅ্যাপ্রুভড লিগে খেললে পরবর্তী ১২ মাস ইংল্যান্ডের কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া যায় না। একই কারণে অস্ট্রেলিয়ার পেসার পিটার সিডলও এবারের টি-টোয়েন্টি ব্ল্যাস্টে নিষিদ্ধ হয়েছেন।
বাধ্য হয়েই অবসর
২০২৪ সালে ডার্বিশায়ারের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর প্যাটেলের পরিকল্পনা ছিল ২০২৫ সালে অন্তত আরও এক মৌসুম কাউন্টি ক্রিকেট খেলা। বেশ কিছু ক্লাবের সাথে তার আলোচনাও চলছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরো গ্রীষ্ম মৌসুম মাঠের বাইরে থাকতে হবে বিধায় তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়লেও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে (যেমন বিপিএল বা পিএসএল) তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন।
এক বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি
সমিত প্যাটেল ও রবি বোপারা ছিলেন একমাত্র দুই ক্রিকেটার যারা ২০০৩ সালে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি ব্ল্যাস্টের প্রতিটি আসরে খেলেছেন। দীর্ঘ ২২ বছরের ক্যারিয়ারে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ২৫ হাজারেরও বেশি রান এবং ৮০০-এর বেশি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন ৬০টি ম্যাচ।
যদিও ফিটনেস সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি, তবে বিপিএলের দর্শকদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষ করে রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে শিরোপা জয় তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে।
ক্যারিয়ার ব্যাটিং
- আন্তর্জাতিক (টেস্ট, ওডিআই, টি-২০): মোট ৬০ ম্যাচে ৮২২ রান। সর্বোচ্চ ৭০* (ওডিআই) এবং ২টি হাফ-সেঞ্চুরি।
- প্রথম শ্রেণি: ২৩১ ম্যাচে ১২,৬৯২ রান। সেঞ্চুরি ২৬টি ও হাফ-সেঞ্চুরি ৬৪টি। সর্বোচ্চ ২৫৭*।
- লিস্ট এ: ২৫৩ ম্যাচে ৬,৩৪২ রান। সেঞ্চুরি ৮টি ও হাফ-সেঞ্চুরি ৩৩টি।
- টি-২০ (ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অন্যান্য): ৪২৯ ম্যাচে ৬,৯৩৯ রান। হাফ-সেঞ্চুরি ৩৭টি। স্ট্রাইক রেট ১২৫.২৭।
ক্যারিয়ার বোলিং
- আন্তর্জাতিক: ৬০ ম্যাচে ৩৮টি উইকেট। সেরা বোলিং ৫/৪১ (ওডিআই)।
- প্রথম শ্রেণি: ৩৫৭টি উইকেট। সেরা বোলিং ৭/৬৮। ৫ উইকেট নিয়েছেন ৫ বার।
- লিস্ট এ: ২৩৬টি উইকেট। সেরা বোলিং ৬/১৩। ৫ উইকেট নিয়েছেন ২ বার।
- টি-২০ (ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অন্যান্য): ৩৬৪টি উইকেট। সেরা বোলিং ৪/৫। ইকোনমি রেট ৭.৩৩।