বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্পকে দেয়া ফিফা শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলে। এই পুরস্কার বাতিল করার আহ্বানের পাশাপাশি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নরওয়েজীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লিজ ক্লাভনেস।

গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের সময় ইনফান্তিনো হুট করেই ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। ফিফার দাবি, শান্তি স্থাপন এবং বিশ্বজুড়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ট্রাম্পের ‘অসাধারণ’ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্প যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হন, তখন ইনফান্তিনো তাকে ‘সান্ত্বনা’ দিতেই তড়িঘড়ি করে এই নতুন পুরস্কারের প্রচলন করেছেন।

নরওয়ে ফুটবল প্রধান লিজ ক্লাভনেস সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন: "আমরা চাই এই ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ পুরোপুরি বাতিল করা হোক। শান্তি পুরস্কার দেওয়ার কাজ ফিফার নয়, এর জন্য নোবেল ইনস্টিটিউট আছে। ফিফার উচিত বিশ্বনেতাদের থেকে নিজেদের একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।"

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা 'ফেয়ারস্কয়ার' ইতিমধ্যেই ফিফার এথিক্স কমিটির কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। তাদের মতে, ট্রাম্পের সাথে অতি সখ্য প্রদর্শন করে ইনফান্তিনো ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি অন্তত চারবার লঙ্ঘন করেছেন।

সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাই তিনি ‘অবজেক্টিভলি’ এই পুরস্কারের যোগ্য। এমনকি ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাডো (যিনি নিজে একজন নোবেল বিজয়ী) তার পদক ট্রাম্পকে দিয়ে দিয়েছেন বলে উদাহরণ টেনেছেন ইনফান্তিনো।

আগামী বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে ক্লাভনেস নিজে উপস্থিত থাকবেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করেননি, তবে নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘স্বচ্ছ’ করার দাবি তুলছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক ‘ব্রোম্যান্স’ ফুটবল মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।