সবুজ কারখানার স্বীকৃতি পেল আরও ৪ প্রতিষ্ঠান

তৈরি পোশাক শিল্প দেশের পণ্য রপ্তানিতে প্রধান খাতই নয়, আন্তর্জাতিক মানদ-ে বিশ^সেরা কারখানা হাব এখন বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার সবুজ কারখানার (গ্রিন ফ্যাক্টরি) স্বীকৃতি পেল আরও চারটি প্রতিষ্ঠান। স্বীকৃতি পাওয়া কারখানাগুলো হলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী টেক্সটাইল লিমিটেড, গাজীপুরের ওয়েলডান অ্যাপারেল লিমিটেড, সাভারের এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ও গাজীপুরের সিয়াম কম্পিউটারইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের মোট ২৮৪টি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইনের (লিড) বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (লিড) গ্রিন ফ্যাক্টরি বা সবুজ কারখানার সার্টিফিকেশন দিয়ে থাকে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দ্রুত পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তরিত হবে, যা বিশ^ বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও টেকসই ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তাদের তথ্যমতে, দেশে এখন সবুজ কারখানা ২৮৪টি। এর মধ্যে ১৪৪ গোল্ড ক্যাটাগরির, ১২১ প্লাটিনাম, ১৫ সিলভার ও সার্টিফাইড ক্যাটাগরির চারটি। পাশাপাশি বিশ^সেরা শীর্ষ ১০০টি পোশাক কারখানার মধ্যে বাংলাদেশেই রয়েছে ৬৮টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাকিস্তানে সাতটি ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে ছয়টি কারখানা। এ ছাড়া ৫৫০টির বেশি কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরি থেকে রেজিস্ট্রেশন বা পাইপলাইনে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রানা প্লাজার ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা মালিকরা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও উৎপাদন পরিবেশ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। মূলত সেই থেকে দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরির যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মানদ-ের এটি সেরা স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে পণ্যের বাড়তি মূল্য না পাওয়া গেলেও ক্রয় আদেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সুবিধা পাওয়া যায়।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একটি কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরি একদিনে বা শুরুতেই গড়ে ওঠে না। এর বিভিন্ন পর্যায়ের মান ঠিক রেখে ধারাবাহিক তদারকির মাধ্যমে স্বীকৃতি লাভ করে। আবার স্বীকৃতি লাভ করার পরেও ধারাবাহিক তদারকি অব্যাহত রাখতে হয়। এর পেছনে দেশি-বিদেশি এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পর্যবেক্ষণ টিম অব্যাহতভাবে মনিটরিং করে থাকে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পোশাক কারখানা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, সবাইকে গ্রিন ফ্যাক্টরিতে আসতে হবে।