দেশের ছয়টি ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক নিয়োগ ও ছাঁটাই কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসলামী ব্যাংক খাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং হঠাৎ করে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ ও ছাঁটাই কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অস্বাভাবিক হারে নিয়োগ দেওয়া এবং পরে নানা অজুহাতে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম দেশ ত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা শুরু হয়। ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এর প্রভাব পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটেও নিয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
চাকরিচ্যুত কর্মীরা দফায় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা গভর্নর বরাবর স্মারকলিপিও পেশ করেন, যেখানে চাকরি পুনর্বহাল, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং ছাঁটাই প্রক্রিয়ার তদন্তের দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি যথাযথ কারণ ছাড়াই অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা শ্রম আইনের পরিপন্থী।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট ছয়টি ইসলামী ব্যাংকের গত কয়েক বছরের নিয়োগ নীতিমালা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং ছাঁটাইয়ের কারণ ও বৈধতা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে ব্যাংক খাতে নিয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে এলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরাও।