পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বিদায়ী সাক্ষাৎ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা চলমান দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রণয় ভার্মা গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ সংক্ষেপে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং উভয় দেশের নতুন সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে আস্থা প্রকাশ করে।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জানান, উভয় দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে জনমুখী সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রণয় ভার্মাকে তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে অবদান রাখায় ধন্যবাদ জানান এবং তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।

প্রণয় ভার্মা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত করে ব্রাসেলস পাঠাচ্ছে দিল্লি। অন্যদিকে ঢাকা মিশনে পরিবর্তন এনে সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিদেবীকে হাইকমিশনার করে পাঠাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

আজ চীন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণের পর দেশটিতে এটাই হবে তার প্রথম সফর।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, তিন দিনের এ সফরে তিনি উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টিও দেশটির কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তুলতে পারেন। কূটনীতিকরা বলছেন, চীন প্রধানমন্ত্রীকে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে আতিথ্য দিতে চায়।

চায়না ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে চীন নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা গভীরতর করা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে শক্তিশালী করতে চায়।