টেকনাফে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে চলছে মাছ শিকার

কক্সবাজারের টেকনাফের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় জেলে ঘাট দিয়ে মাছের প্রজনন মৌসুমে সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া জেলে ঘাট, লম্বরী জেলে ঘাট, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীয়া পাড়া জেলে ঘাট, উত্তর শীলখালী জেলে ঘাট, দক্ষিণ শীলখালী জেলে ঘাট, শামলাপুর জেলে ঘাট, সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া জেলে ঘাট, মুন্ডার ডেইল জেলে ঘাট, খুরের মুখ জেলে ঘাট ও কায়ুকখালী ঘাট দিয়ে প্রতিদিনই কিছু জেলে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আবদুল আমিন মাঝি নামে স্থানীয় এক জেলের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে মাছ শিকারের অনুমতি মিলছে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে জেলেরা দশ হাজার হারে টাকা দিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়েও মাছ শিকারে যাচ্ছেন।

প্রজনন মৌসুমে মা মাছ রক্ষায় গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) দিয়েছে সরকার। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবুও এক শ্রেণির জেলে বাড়তি আয়ের লোভে ডিমওয়ালা মাছ শিকারে সমুদ্র নেমেছেন। 

সামুদ্রিক মৎস্য আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

টেকনাফের বঙ্গোপসাগরে উপকূলের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া জেলে ঘাট, মুন্ডার ডেইল জেলে ঘাট, উত্তর শীলখালী, দক্ষিণ জেলে ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রলার-বোট ব্যবহার করে সমুদ্রে মাছ শিকারে ব্যস্ত স্থানীয় শতাধিক জেলে।

এদিকে টেকনাফ পৌরসভার উপরের বাজার, বাস ষ্টেশন মাছ বাজার, সাবরাং বাজার, শামলাপুর বাজারে দেখা যায়, সমুদ্র থেকে আসা মাছ বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় মৎস্য আড়তে। কর্মব্যস্ত সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিক এবং বরফকলগুলোও।

মৌলভী ইলিয়াস নামের অপর এক জেলে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা টাকা দিতে পারিনাই, তাই মাছ ধরতে পারছি না। সরকার কি তাহলে টাকাওয়ালা গো লইগা মাছ ধরার ব্যবস্থা রাখছে!’ তার মতো স্থানীয় অনেকে জেলেই এই অভিযোগ জানিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রলার মালিক বলেন, আমার অধীনে ২-৩টি বোট সাগরে মাছ ধরছে। বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরা ১০টা ট্রলার, ১২টি নৌকা সাগরে মাছ ধরতে গেছে। 

টেকনাফ উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. তৈয়ব বলেন, টেকনাফের উপকূলী এলাকায় দেখা যায় শতাধিক নৌকা মাছ শিকার করছে অবাধে, প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। মাঝে মধ্যে দেখা যায় অভিযানে গিয়ে জরিমানা ও জাল পুড়িয়ে দিচ্ছে।

এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা, জাল পুড়িয়ে ফেলেছি। এবং টাকা নিয়ে জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া সম্পন্ন মিথ্যা। এরকম একটি মহল বলে থাকে। তবে এর সত্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে মাছ শিকারকারী জেলেদের ধরতে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান চলছে।