পুরো আফ্রিকার স্বপ্ন মরক্কোর চোখে

বিশ্বকাপের আঙিনায় মরক্কো মানেই লড়াকু ফুটবল আর অদম্য সাহসের গল্প। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের স্তব্ধ করে দিয়ে তারা শেষ চারে পা রাখে। যদিও সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে তারা চতুর্থ স্থানে থেকে মিশন শেষ করে, তবে তাদের সেই যাত্রা ফুটবল বিশ্বে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে আসা মরক্কো এবারই প্রথমবারের মতো টানা তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কীর্তি গড়তে যাচ্ছে। বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১১ নম্বরে থাকা দলটি এখন ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মরক্কোর ডাগআউটে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের পরিবর্তে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াহবি। এর আগে মরক্কোর অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ হিসেবে তিনি দারুণ সফল ছিলেন, যেখানে তার অধীনেই মরক্কো ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করে। সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস এবার বড়দের বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়াই ওয়াহবির মূল লক্ষ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে মরক্কো ইতিমধ্যেই চমক দেখিয়েছে সব কটি (৮টি) ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা, যা তাদের ইতিহাসে প্রথম।

মোহাম্মদ ওয়াহবির দর্শন : ওয়াহবি মূলত আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবলে বিশ্বাসী। অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি তরুণদের ওপর আস্থা রাখতে পছন্দ করেন। তার ৪-৩-৩ ফর্মেশনে উইংগুলোর গতি এবং মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যেকোনো বড় দলকে হারানো সম্ভব।

মূল ভরসা : আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ

মরক্কোর রাইট-ব্যাক পজিশনে পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি বিশ্বের অন্যতম সেরা। তার অবিশ্বাস্য গতি এবং ওভারল্যাপ করে আক্রমণে সাহায্য করার ক্ষমতা দলের প্রধান অস্ত্র। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ দলে আসায় মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৪ গোল করা আইয়ুব এল কাবিও থাকবেন দুর্দান্ত ফর্মে।