পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম টেস্ট

এবার বাংলাদেশই ফেভারিট

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পরের বছর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলে আসছে বাংলাদেশ। ২৫ বছরে ১৫ টেস্ট, ম্যাচের সংখ্যা বেশি না হলেও সময়ের ব্যবধান কম নয়। অন্যান্য ফরম্যাটে যে হিসাবই থাকুক না কেন, দীর্ঘ এই সময়ে টেস্টে কখনই

পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অভিজাত এই ফরম্যাটে নিজেদের রেকর্ড পাল্টে নেওয়া দলটিই এবার ফেভারিট, সেটাও পরিষ্কার ব্যবধানে।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে এগিয়ে থাকা দলটির নাম বাংলাদেশ। বাড়াবাড়ি বা অবাস্তব কল্পনা নয়, নানা হিসাব শেষে এটাই বাস্তবতা হয়ে দেখা দিচ্ছে। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড বলছে, ফেভারিটের তকমাটা এবার বাংলাদেশের গায়েই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে তাদের মাটিতেই বাংলাদেশ জেতে ২-০ ব্যবধানে। বাকি দুই ফরম্যাটেও সিরিজ জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ। গত বছরের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারানো বাংলাদেশ গত মার্চে ওয়ানডে সিরিজ জেতে একই ব্যবধানে। তিন ফরম্যাটের সর্বশেষ তিন সিরিজেই পাকিস্তানকে হারানো বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় থেকেই সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস গড়ার সেই সিরিজ থেকে দেড় বছর এগিয়ে এলেও আলোচনায় থাকছে ব্যাপারটি। প্রায় সব সংবাদ সম্মেলনেই মধুর সেই স্মৃতির কথা মনে করানো হচ্ছে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিদের। এ বিষয়ে দুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানান, ওই সিরিজটি কেবলই ইতিহাস, তার দলের চোখ নতুন ইতিহাস গড়ায়। ম্যাচের আগের দিন একই সুরে কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্তও।

তবে ওই সিরিজ জয় যে এবার বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, সেটাও জানিয়ে রাখেন তিনি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় শেষ সিরিজটায় আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা অতীত হয়ে গেছে। হ্যাঁ, অবশ্যই ওই সিরিজটা আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। তবে এই সিরিজে আমাদের আবার ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। তাহলেই হয়তো ফল আমাদের পক্ষে আসবে। কিন্তু রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি আমরা চিন্তা করছি না। আমার মনে হয় যে, প্রতিটা দিন ভালো ক্রিকেট খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটা দিন লড়াকু ক্রিকেট খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

পাকিস্তানের মাটিতে জেতা সিরিজটাতে বল হাতে দারুণ ছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। আগুনে বোলিংয়ে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরান নাহিদ রানা। দীর্ঘদিন পর এই সিরিজে দলে ফেরা তাসকিন আহমেদও ছিলেন ছন্দময়। দলে আছেন ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলামও। চারজনের এই পেস আক্রমণকে সময়ের সেরা মনে করেন শান্ত, এগিয়ে রাখছেন পাকিস্তানের পেস বিভাগ থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাষায়, ‘আমি বলব, দুই দলেরই ভালো পেস আক্রমণ। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, শেষ কয়েক বছর ওরা যেভাবে বোলিং করছে, আমি বলব আমাদের পেস বোলিং বিভাগ হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে আছে। কিন্তু আমরা যখন পাকিস্তান দল নিয়ে কথা বলি, সব সময় ওদের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই তারা খুবই ভালো দল এবং খুব ভালো পেস বোলিং সাইড। তবে শেষ কয়েক বছর আমরা যেভাবে পেস বোলাররা বল করছি, এই কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে।’

একই প্রশ্নে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ অবশ্য কোনো পক্ষকেই এগিয়ে রাখার কথা বলেননি। প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের শক্তিতে আস্থা রাখছেন তিনি, ‘দেখুন, তাদের নিজস্ব শক্তি আছে, আমাদেরও তাই। আমরা কেবলই আমাদের শক্তি ও দক্ষতা নিয়ে ভাবতে পারি এবং নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের বিচার করতে পারি। আমরা ১৬ সদস্যের ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল নিয়ে এখানে এসেছি, যারা যেকোনো পরিস্থিতিতেই খেলতে পারে। স্কোয়াড নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। এখন আমাদের কাজ ১০ দিন ভালো ক্রিকেট খেলা। আশা করি যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারাই শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতবে।’

‘ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা চাই দলের কাছ থেকে, প্রথম ইনিংসে আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলি সব সময়। এই চ্যালেঞ্জটা যদি আমরা ঠিকভাবে নিতে পারি, আমার মনে হয় এই চক্রটা আরও ভালো হবে।’ নাজমুল হোসেন শান্ত এই কথাগুলো বলেছেন ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভগ্নদশার উল্লেখ করতে গিয়ে। গত চক্রে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের খেলা ৬ টেস্টে মাত্র একবারই ৩০০-এর বেশি রান দেখা গেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১০ রানের ইনিংসের সেই ম্যাচটি বাদ দিলে অন্য কোনো ম্যাচে ২০০ রানও করতে পারেনি! তারও আগে ২০২১ সালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মিরপুরে তাদের করা ৩০০ রান দুই ইনিংসেও ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। সাজিদ খানের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়েছিল ৮৭ আর ২০৫-এ।

এবার তাই এই জায়গায় উন্নতিতে চোখ রাখছেন নাজমুল, ‘(প্রথম ইনিংসে) ৪শ’র বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো। একটা জিনিস বুঝতে হবে, একেকজনের খেলার ধরন একেক রকম। আমি চাই না যে কেউ তা পরিবর্তন করুক। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, সে সেভাবেই খেলুক। রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ ওভারে যদি আমরা ৪০০ করতে পারি কোনো সমস্যা নেই, যদি কেউ ১২০ ওভার লাগায়, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’

মিরপুরের ‘রহস্যময়’ উইকেট নিয়ে সব সময়ই আলোচনা থাকে। বেশিরভাগ সময় স্পিন নির্ভর একাদশ নিয়েই এই মাঠে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে এবার স্পোর্টিং উইকেট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্তও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ দলে দেখা যেতে পারে তিন পেসার। এবাদত ও শরিফুলের সঙ্গে তৃতীয় পেসার হতে পারেন তাসকিন। তবে দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফেরায় তার খেলার সঙ্গে জড়িত থাকছে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারটিও। শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত হতে না পারলেও একাদশে জায়গা হবে নাহিদ রানার। স্পিন বিভাগটি বরাবরের মতোই সামলাবেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পাওয়া তানজিদ হাসান তামিমকে বিকল্প ওপেনার হিসেবে সঙ্গে রাখা হচ্ছে, তবে তার অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। টেস্ট অভিষেক হচ্ছে না প্রথমবারে মতো ডাক পাওয়া অমিত হাসানেরও।