থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াতে অবস্থিত ইসলামি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জাদুঘর ও আল-কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে আব্বাসীয় আমলের এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো একটি বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
ইয়েমেনের হাজরামাউত থেকে সংগ্রহ করা পশুর চামড়া এবং প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি কালি দিয়ে প্রস্তুতকৃত প্রায় ৫০ কেজি ওজনের এই পবিত্র গ্রন্থটি প্রাচীন ইসলামি সভ্যতার কারুশৈলী ও সৃজনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ইসলাম প্রচারক শেখ জুমাদিল কুবরার মাধ্যমে ইয়েমেন থেকে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ৫০০ বছর ইন্দোনেশিয়ায় সংরক্ষিত থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর আগে পাণ্ডুলিপিটি থাইল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। প্রাচীন এই সম্পদকে অক্ষুণ্ণ রাখতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অর্গানিক পদ্ধতিতে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জাদুঘর কর্মকর্তা নিক ইলহাম নিক ইউসুফ এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম এনএসটি-কে জানান, এটি তৈরিতে ৩৪৬টি পশুর চামড়া ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই। সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি হাতে লেখা হয়েছে প্রাচীন কুফি লিপিতে। কালি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও খেজুর গাছের ছাল পোড়ানো কার্বন এবং বনের বিভিন্ন জৈব উপাদানের মিশ্রণ।
পাণ্ডুলিপিটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় এর সুরক্ষায় কোনো আধুনিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এ ধরনের উপাদান ব্যবহার করলে মূল কালি ফেটে যাওয়ার বা চামড়ার বুনট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই কারণে প্রতি ছয় মাস অন্তর অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে কেবল প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন করে এটি পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা হয়।
ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, এই অমূল্য সম্পদটি দীর্ঘকাল ইন্দোনেশিয়ায় সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীকালে করোনা মহামারীর সময় এটি থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াতে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এই অমূল্য ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের এটি স্পর্শ করার অনুমতি দেওয়া হয় না।