হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই নদীর উত্তর পাড়ে মজিদ মিয়ার একটি ইট-বালু-কংক্রিটের দোকানে হাতুড়ি পেটানোর কাজ করেন মমিনা নামের এক নারী শ্রমিক। বয়স প্রায় পঞ্চাশোর্ধ এই নারী জীবনের প্রতিকূলতা জয় করেই এখনো জীবিকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, বিধবা ভাতা কার্ড কইরা দিবু কইয়া ২ হাজার টাকা নিছিল পৌরসভার (সাবেক) কাউন্সিলার হাসিমের ভাতিজা টিপু। তিন বছর হইল দিমু দিমু কইরা খালি ঘুরায়। এখন কয় আমরার সময় নাই। আরেকবার সময় আইলে দিমুনে। এখন শ্রমিকদল নেতা ফারুক মিয়ারে ধরছি সরকারি ১০ কেজি চাউল যদি পাই।
কিশোরী বয়সে বিয়ে হয়েছিল কয়েছ মিয়ার সঙ্গে। উমেদনগর পশ্চিম হাটির বাসিন্দা কয়েছ মিয়া ছিলেন মাছ বিক্রেতা। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর ৩/৪ বছর শয্যাশায়ী থাকাবস্থায় মারা যান তিনি। তার চিকিৎসার জন্য শেষ সম্বল ১ শতক ভূমি ও ঘর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে সে সময়।
মমিনার ৪ ছেলে ২ মেয়ের রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর চোখে অন্ধকার নেমে আসে মমিনার। অভাবের সংসারে সন্তানসন্ততিদের মুখে ভাত তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। এভাবে কাটে কয়েক বছর। ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে। ছোট ছেলে ছাড়া বাকী ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ভেবেছিলেন ছেলেরা সংসারে হাল ধরবে। নাতিপুতিদের নিয়ে সময় কাটাবেন। কিন্তু ছেলেরা বিয়ে করার পর মায়ের কষ্ট, স্নেহমমতা ভুলে আলাদাভাবে নিজ সংসার গড়েছে। মমিনার সেখানে কোনো স্থান নেই। ছোট ছেলেটা পা ভেঙে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছেনা।
মমিনার ৪৫ বছর আগে খসরুর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর সংসার মুটামুটি চলছিল ভালোই। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদের ভরণপোষণ আর ঘর ভাড়া যোগাড় করতে খাটুনি বেড়ে যায়। নিজের শরীরের দিকে নজর দেয়ার সুযোগ হয়নি। ফলে এখন নানা অসুখ দেখা দিয়েছে। তারপরও জীবন চলার জন্য হাতুড়ি পেটাতে হচ্ছে তাকে। অর্থের অভাবে নিজের ও ছোট সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। শাক শুটকি আর ডাল খেয়ে চলছে জীবন। তিনি বলেন বিধবা কার্ড কে দেয়, কোথায় আবেদন করতে হয় কিছু জানি না। টিটু কার্ড করে দেবে বলে পরিশ্রম করে রুজির ২ হাজার দিয়েছিলাম। আজো কার্ড পাইনি। টাকাও ফেরত দেয় না। বিধবা কার্ড ও সরকারি অন্যান্য সহায়তা পেলে অসুস্থ ছেলেটাকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ হতো।