ইটিপি ব্যবহার না করার অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর 

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুট্টা পচিয়ে স্টার্চ উৎপাদনকারী এ কারখানাটি তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পরিবেশে ফেলছে। এছাড়া কারখানার ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নিয়মিত ও কার্যকরভাবে ব্যবহার না করায় দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং প্রাণিসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে রতনপুর-ছাতিয়াইন আঞ্চলিক সড়কে চলাচল করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও বমিভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

এলাকাবাসী জানান, এ সমস্যা নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে অতীতে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার পাশের ড্রেনে কালো রঙের বর্জ্য পানি জমে রয়েছে, যা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। একই সময়ে কারখানা থেকে ট্রাকযোগে পশুখাদ্য পরিবহনের সময়ও দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় ইটিপি থাকলেও সেটি নিয়মিত চালু রাখা হয় না কিংবা উৎপাদিত বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন করা হয় না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দূষণের প্রভাবে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমছে, দূষিত পানি পান করে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

কারখানার অদূরে অবস্থিত ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিন ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। তাদের অভিযোগ, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসসহ জেলার বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইটিপির কার্যকারিতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ এর উপ পরিচালক ড. ইউসুফ আলী ভুঁইয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত