ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে চলমান যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও মসজিদগুলোতে শিশুদের কোরআন তেলাওয়াতের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
পোল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা এ শহরে মুসলিম শিশুরা কোরআন শিক্ষা ও হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতেও তাদের মানসিক প্রশান্তি, ধর্মীয় শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় মসজিদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও উদ্বেগের পরিবেশে লভিভের মসজিদগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সেখানে শিশুরা শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই গ্রহণ করছে না, বরং পারস্পরিক বন্ধন, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতিশীলতাও অর্জন করছে।
মসজিদে আয়োজিত কোরআন হিফজ প্রতিযোগিতাগুলো মুসলিম সমাজের দৃঢ়তা ও টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুরা কঠিন বাস্তবতার মাঝেও কোরআনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও গভীর করছে।
সম্প্রতি এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। এ সময় শিশুদের হাসি, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং অর্জনের অনুভূতি পুরো আয়োজনকে আনন্দঘন পরিবেশে রূপ দেয়।
আয়োজকদের মতে, এমন উদ্যোগ শিশুদের মনে ইতিবাচক স্মৃতি তৈরি করে এবং যুদ্ধের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লভিভের এই উদ্যোগ কেবল একটি স্থানীয় কার্যক্রম নয়, বরং সংকটকালে মসজিদের মানবিক ও সামাজিক ভূমিকার জীবন্ত উদাহরণ। এসব মসজিদ এখন আশা জাগানো, মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং সমাজ পুনর্গঠনের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে।
স্থানীয় মুসলিমদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের কণ্ঠে কোরআনের তেলাওয়াত প্রমাণ করে, যুদ্ধের অন্ধকারের মধ্যেও ইমান মানুষকে আলো দেখাতে পারে এবং জীবন থেমে থাকে না।