নাক ডাকা শান্তির ঘুম নাকি বিপজ্জনক

ঘুমের সময় নাক ডাকা অনেকের কাছেই সাধারণ বিষয় মনে হয়। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক অভ্যাস ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু নিয়মিত ও উচ্চৈঃস্বরে নাক ডাকা কখনো কখনো শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

ঝুঁকি কী হতে পারে

বিশেষ করে এটি ঝষববঢ় অঢ়হবধ নামের একটি গুরুতর ঘুমজনিত রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কেন হয়?

ঘুমের সময় আমাদের গলার পেশি কিছুটা শিথিল হয়ে যায়। যদি শ্বাসনালির পথ সংকুচিত হয়ে যায়, তখন বাতাস প্রবাহের সময় কম্পন তৈরি হয় এবং সেই কম্পন থেকেই নাক ডাকার শব্দ হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই সংকোচন এত বেশি হয় যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় ঙনংঃৎঁপঃরাব ঝষববঢ় অঢ়হবধ।

লক্ষণ

ঘুমের সময় জোরে নাক ডাকা

ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ হাঁপিয়ে ওঠা

সকালে মাথাব্যথা

দিনের বেলা অতিরিক্ত

ঘুম ঘুম ভাব

মনোযোগ কমে যাওয়া ও খিটখিটে মেজাজ

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যাদের ওজন বেশি

ঘাড় মোটা বা গলার গঠন সংকীর্ণ

ধূমপান বা অ্যালকোহল গ্রহণকারী

নাক বন্ধ বা সাইনাসের দীর্ঘদিনের সমস্যা

উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগী

 

ঘরোয়া পরামর্শ

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করা

ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা

নাক বন্ধ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া

নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা

কখন ডাক্তার দেখাবেন

যদি নাক ডাকার সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, দিনে অতিরিক্ত ঘুম পায় বা দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে দেরি না করে একজন বক্ষব্যাধি ও ঘুম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে ঝষববঢ় ঝঃঁফু (চড়ষুংড়সহড়মৎধঢ়যু) পরীক্ষা করে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হয়।

সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিলে নাক ডাকার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও কমানো যায়। তাই নাক ডাকা অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।