মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে এবং এর প্রভাবে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ পুনরায় বেড়ে ওঠা ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস ২০২৬ মিড-ইয়ার আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জ্বালানি খাতে। সরবরাহ সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। এতে জ্বালানি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের অতিরিক্ত মুনাফা পেলেও বিশ্বজুড়ে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়চাপ বেড়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে খাদ্যপণ্যের দাম। সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা ফসলের উৎপাদন কমিয়ে খাদ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে বিশ্বে যে মূল্যস্ফীতি কমার ধারা চলছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তা থামিয়ে দিয়েছে। যদিও শক্তিশালী শ্রমবাজার, স্থিতিশীল ভোক্তা চাহিদা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করছে, তবুও এগুলো সামগ্রিক নেতিবাচক চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে পারবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রধান এবং আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া জানান, 'মধ্যপ্রাচ্যের সংকট উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূলধন প্রবাহে নতুন চাপ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদকে সীমিত করে দিতে পারে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঋণঝুঁকি আরও গভীর করতে পারে।'