ভারতের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে : মোদির আশ্বাস বুমেরাং

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের উপর বুধবার (২৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতির বড় অংশের ওপর চাপ পড়েছে। শিল্পকারখানাগুলো কার্যত সংকটে রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার বিষয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে বার্তা দিয়েছেন যে উৎপাদন ও ভোগ বা বেচাকেনা বাড়ানো জরুরি। তবে এই পরিস্থিতিতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি মোদি দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে শীঘ্রই সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় কর-ছাড়ের ব্যবস্থা আসছে। 

স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লা থেকে জনসভায় ভাষণ দিয়ে মোদি বলেন, দেশের মানুষকে আত্মনির্ভর হতে হবে— হতাশা নয়, গর্ব থেকে। তিনি ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেন ‘স্বদেশি’ বা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সাইনবোর্ড দোকানের সামনে রাখার জন্য।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির বার্তাটি মূলত ট্রাম্পের শুল্কের জবাব। ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর এই শুল্কে ভারতের রপ্তানি নির্ভর খাতগুলো যেমন পোশাক, হীরা ও চিংড়িসহ বিভিন্ন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোদি তখন সাফ জানিয়ে দেন— ভারতে তৈরি করো, ভারতে খরচ করো।

তবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ বাস্তবায়ন এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। নানা ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার পরও উৎপাদন খাতের অংশীদারিত্ব ভারতের জিডিপিতে মাত্র ১৫ শতাংশ। মোদি এবার কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। বাজেটে ঘোষিত ১২ বিলিয়ন ডলারের আয়কর ছাড়ের পর এবার লক্ষ্য গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স (জিএসটি) সরলীকরণ ও হ্রাস করা।

জেফরিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আয়কর ছাড় ও জিএসটির সংস্কারের ফলে ভোক্তা খাতে ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে। ভারতের অর্থনীতির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে ভোক্তা ব্যয় থেকে। যদিও গ্রামে ভালো ফসলের কারণে চাহিদা স্থিতিশীল, শহরে চাকরি ছাঁটাই ও মজুরি কমে যাওয়ায় খরচ কমেছে। এই কর ছাড় পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এত সংস্কারের পরও ভারতের প্রবৃদ্ধি গত কয়েক বছরের ৮ শতাংশ হার থেকে অনেকটাই কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কও সংকটে, বিশেষত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে। নির্ধারিত বাণিজ্য আলোচনাও বাতিল হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যত বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যে ‘নিষেধাজ্ঞার’ সমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত