ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাড়ছে পণ্যটির দাম। গত সাত দিনের ব্যবধানে নতুন করে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। ঈদ সামনে রেখে দফায় দফায় অতিমুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু পেঁয়াজই নয়, সব ধরনের মসলাজাতীয় পণ্যের দাম ও খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ দোকানিকে ৫৫ ও অল্প কিছু দোকানে এখনো ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সপ্তাহখানেক আগে পণ্যটির দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহেও পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছিল ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ দুই সপ্তাহে এই পণ্যটির দাম বাড়ল অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।
কৃষি বিভাগ ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। যে কারণে দামও তলানিতে নেমে যায়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে মূল উৎপাদন মৌসুমে। তবে যখনই এই পেঁয়াজের মজুদ কৃষক থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে, তখন থেকেই মূলত দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে সুযোগ নিচ্ছে ঈদ কেন্দ্র করে। কোরবানির ঈদে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। শুধু ঈদে নয়, বাড়তি চাহিদা কেন্দ্র করে রোজার মাসেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতি বছর স্থানীয়ভাবে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। যেখানে চাহিদা রয়েছে ২৭ থেকে ২৮ লাখ টন। তবে উৎপাদন-পরবর্তী সংরক্ষণজনিত ক্ষতির কারণে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে কখনো কখনো পেঁয়াজ আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। নতুন মৌসুম শুরুর আগ মুহূর্তে প্রতি বছর পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গতকাল বিএআরসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানান, পেঁয়াজের সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। এতে করে এক বছর পর থেকে আর পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।
ঢাকার বাড্ডার মিজান সুপার স্টোরের বিক্রেতা মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, দুই সপ্তাহ ধরেই পেঁয়াজের দাম একটু একটু করে বাড়ছে। পাইকারিতে বেশি দাম দিয়ে কেনার কারণে খুচরাতেও দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের আগে প্রতি বছরই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।
জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. আশরাফুল জানান, জ¦ালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে বাজার একটু চড়া। তবে পেঁয়াজের দাম যে পাইকারিতে বেশি একটা বেড়েছে তাও না। কারণ প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, পাইকারি বাজারে ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হলে সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৫০ টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও খুচরা বিক্রেতারা একটু বেশি লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে থাকতে পারে।
এদিকে শুরু পেঁয়াজের দামই নয়, কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে বাড়তে শুরু করেছে অন্যান্য মসলার দামও। এর মধ্যে প্রতি কেজি জিরায় ৫০ টাকা, লবঙ্গ ১০০ টাকা এবং এলাচের দাম বেড়েছে বাজার ও এলাকাভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে এখনো পর্যন্ত আদা ও রসুনের দামে খুব বেশি অস্থিরতা নেই।
এদিকে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম, কোন কোন দোকানিকে অবশ্য ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে। ডিমের দাম এমন সময় বেড়েছে, যখন বাজারে সবজির দাম ব্যাপক চড়া। তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়।