গরমকাল মানেই চুলের যত্নে চাই অতিরিক্ত যত্ন। অতিরিক্ত ঘাম, আর্দ্রতা, রোদ, স্ক্যাল্পে জমা নোংরার কারণে অনেকেই মাথার ত্বকে জ¦ালা ও চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বাজারে নানা উপাদান ব্যবহার করলেও, তাতে অনেক সময় নানা সাইড এফেক্ট হয়। তাই দুটি ঘরোয়া উপাদান এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর বলে মনে করা হয়। চাল ধোয়া পানি বা রাইস ওয়াটার এবং ডাবের পানি। গরমে চুলের যত্নে বেশি কার্যকর হলো।
রাইস ওয়াটার
রাইস ওয়াটার হলো চাল ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করার পর যে স্টার্চযুক্ত পানি পাওয়া যায় সেটি। বহু বছর ধরে পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার রূপচর্চায় এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড, ইনোসিটল, ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান। যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলো চুল ভাঙা কমায়, ড্যামেজ হওয়া অংশ মেরামত করতে সাহায্য করে এবং ফ্রিজি চুল নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। চুলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং গরম ও আর্দ্রতার কারণে হওয়া ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। ফলে পরোক্ষভাবে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয়। তবে যাদের স্ক্যাল্প খুব শুষ্ক, কার্লি বা ভঙ্গুর চুল, বা প্রোটিন-সেনসিটিভ হেয়ার, তাদের জন্য রাইস ওয়াটার সব সময় উপযুক্ত নাও হতে পারে।
ডাবের পানি
ডাবের জল বিভিন্ন উপকারী খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ইলেকট্রোলাইট এবং হাইড্রেটিং উপাদানে ভরপুর। এটি তেলের মতো ভারী নয়, বরং স্ক্যাল্পে ঠা-া অনুভূতি দেয়। ডাবের পানি স্ক্যাল্পকে গভীরভাবে হাইড্রেট করে, জ¦ালা ও চুলকানি কমায় এবং স্ক্যাল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। যদি চুল দুর্বল, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে ক্ষতিগ্রস্ত বা খুব শুষ্ক হয় এবং আপনি চুলের ভলিউম বাড়াতে বা চুলকে শক্তিশালী করে তুলতে চান, তাহলে রাইস ওয়াটার উপকারী হতে পারে। যদি গরমে ঘেমে যাওয়া স্ক্যাল্প, চুলকানি, ফ্রিজি চুল বা অতিরিক্ত শুষ্কতার সমস্যা থাকে, তাহলে ডাবের পানি বেশি কার্যকর হতে পারে। গরমে চুলের জন্য সবচেয়ে জরুরি হাইড্রেশন। অতিরিক্ত প্রোটিনের চেয়ে স্ক্যাল্পকে ঠা-া ও আর্দ্র রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।