জমে উঠেছে গরু ছাগলের হাট

বাঁশখালীতে ৬০ হাজার পশু প্রায় ২০টি হাটে বিক্রি হবে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কুরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত বাজারের পাশাপাশি কুরবানির ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র কিছু মৌসুমের বাজার ও বসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন পশুর বাজারের ক্রেতাদের আকর্ষনে মাইকিং করে নানা ধরনের অফারে দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (২৩ সে) হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে গরু-ছাগল, মহিষ বাজারে আনা নেওয়া হয়েছে। খামারিদের পাশাপাশি ক্রেতারা পশু দর দামে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর কয় দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা, তাই জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, এ বছর কুরবানির জন্য বাঁশখালীতে পশুর চাহিদা রয়েছে ৫৬ হাজার ১১০টি। এর বিপরীতে সরবরাহ প্রস্তুত রয়েছে ৬০ হাজার ৩৮৯টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার ২৭৯টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। গত বছর এ উপজেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা ছিল প্রায় ৪৬ হাজার, আর প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রায় ৬২ হাজার পশু যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বাঁশখালীতে বর্তমানে তিনটি স্থায়ী ও ১২টি অস্থায়ীসহ মোট ১৫ থেকে ২০টি পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এসব হাটে উপজেলার বিভিন্ন খামারে লালিত পশু বিক্রি হবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর কুরবানির জন্য উপজেলায় গরু রয়েছে ৩৮ হাজার ৩৩২টি, মহিষ ৪ হাজার ৬৬২টি, ছাগল ১৪ হাজার ৭৮০টি এবং ভেড়া ২ হাজার ৬১৫টি। এতে করে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক গরু মোটাতাজাকরণ খামার এবং শতাধিক ছাগলের খামার রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বিক্রির উপযোগী ৮ থেকে ১০টি গরু ও ছাগল লালন করা হচ্ছে।

বাঁশখালী পৌরসভার মিয়ার বাজারের গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আবুল কালাম জানান, কোরবানির পশুর কেনাবেচা সামনে রেখে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুর পরিচর্যায়। অধিকাংশ খামারেই দেশি জাতের গরু ও ছাগল লালন করা হয়েছে। এসব পশুকে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা ও ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানান তারা।

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সুপন নন্দী বলেন,বাঁশখালীতে এবার ৩টি স্থায়ী ও ১২টি অস্থায়ীসহ ১৫ থেকে ২০টি পশুর হাট (বাজার) বসবে। উপজেলায় কুরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় চার হাজারেরও বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত বছর এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরও বেশি ছিল। আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়মিতভাবে খামারিদের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ছাড়া প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোরবানির বাজারেও মেডিকেল টিম সক্রিয় থাকবে। আশা করছি, এ বছর খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।