ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দক্ষিণী তারকা রাম চরণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাক্ষাতের খবর ও ছবি ফাঁস হতেই সিনেদুনিয়ায় জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দক্ষিণী তারকা কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন?
আসলে রাজনৈতিক ময়দানের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তারকাদের আলাপ, আলোচনার খবর প্রকাশ্যে এলে এহেন কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়! রামচরণের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার মোদি সাক্ষাত-স্মৃতির ঝুলি উপুড় করে নিজেই ধোঁয়াশা সরালেন দাক্ষিণাত্যভূমের সুপারস্টার।
রামচরণ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎই সারেন তিনি। যেখানে শুধুমাত্র সিনেমা এবং ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে আলোচনা হয়। রামচরণের মন্তব্য, ‘উনি আমার আসন্ন সিনেমা ‘পেড্ডি’র বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আমি মোদিজিকে বলেছিলাম, এটা নতুন, প্রগতিশীল ভারতের গল্প এবং আমাদের দেশের গ্রামগুলিকে স্বাবলম্বী করে তোলার গল্প। ঠিক সেসময়েই মোদিজি আমাকে পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের গল্প শোনান। তিনি বলেন, বহু বছর আগে গ্রামবাংলার এক ফুটবলার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন। আর আজ সেই গ্রামের ৮৫ জনেরও বেশি মানুষ ফুটবল খেলেন।’
আসলে রামচরণের ‘পেড্ডি’ সিনেমার প্রেক্ষাপটও খানিকটা সেরকমই। বহু প্রতীক্ষিত মেগাবাজেট এই ছবিতে দক্ষিণের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কুস্তিগীরের ভূমিকায় দেখা যাবে রামচরণকে। যে দৌড়, কুস্তি থেকে মুগুরভাজার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী। আসলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন বহু ‘ট্য়ালেন্ট’ সুপ্ত রয়েছে। সেসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করেই মোদির সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে আলোচনা হয় দক্ষিণী তারকার।
রামচরণ এও বলেন যে, ‘বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু সিনেমা শহুরে প্রেক্ষাপটের পরিবর্তে ছোট শহর এবং গ্রামগুলোর পটভূমিতেই তৈরি হচ্ছে। যেগুলো শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং গ্রাম-মফস্বলের প্রেক্ষাপটে। কারণ ভারতের তীরন্দাজি দলে এমন অনেক আদিবাসী খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের মধ্যে সহজাতভাবেই এহেন প্রতিভা বিদ্যমান। গ্রাম থেকে উঠে আসা এমন প্রতিভারা যখন যথাযথ স্বীকৃতি পান, তখন তা সত্যিই গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে।” তিনি বলেন। জুন মাসের ৪ তারিখ মুক্তি পাচ্ছে ‘পেড্ডি’। তার প্রাক্কালেই মোদি সাক্ষাতের কথা ভাগ করে নিলেন রামচরণ।