হঠাৎ হাত কেটে গেলে যা করবেন

বিপদ আসলে বলে-কয়ে আসে না। হঠাৎ অসাবধানতাবশত কেটে ফেলতে পারেন হাত। রান্নাঘর বা অন্য যে কোনো কাজে ধারালো কিছুতে হাত-পা কেটে যেতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পড়েন। তবে এ সময় কী করবেন তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। জেনে নিন হঠাৎ হাত-পা কেটে গেলে কী করবেন।

১. আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠা-া রাখুন। আগে খেয়াল করুন হাত কতটুকু কেটেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারলে ভয় অনেকটা কেটে যেতে পারে।

২. যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনাকে মোকাবিলা করার জন্য বাসাবাড়িতে রাখুন প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স। সেই বক্সে কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণ রাখুন। যেমন জীবাণুমুক্ত গজ কাপড়,  ব্যান্ডেজ, ছুরি, তুলা, কাঁচি, চিমটা, হ্যান্ড গ্লাভস, ক্ষতস্থান জীবাণুমুক্ত ও পচনরোধক মলম (অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম), স্যাভলন বা ডেটল, খাওয়ার স্যালাইন, ব্যথানাশক ওষুধ, থার্মোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্রসহ আরও প্রয়োজনীয় উপকরণ।

৩. প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে কাটা জায়গাটি হালকা করে চেপে রাখুন। এতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ হবে। খেয়াল রাখুন যাতে কাটা জায়গাটা উঁচুতে থাকে। এবার দেখুন রক্ত বন্ধ হলো কি না। রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে নিন।

৪. এইবার কেটে যাওয়া স্থানটিতে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে দিন। এরপর পাতলা গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ধীরে ধীরে আটকে দিন। কেটে যাওয়া স্থানটি ভালো করে দেখুন। ধাতব বস্তুতে কাটার ফলে গভীর ক্ষত তৈরি হলে এক ডোজ টিটেনাস ইনজেকশন নিন। এ ক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সে ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগে চলে যেতে পারেন।

৮. অনেক সময় হাতের রগ কেটে যেতে পারে। রগ বা টেনডন কেটে গেলে, ক্ষতস্থানে কোনো ময়লা লেগে

থাকলে তা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান ভালো করে চেপে ধরে অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে যান। দুর্ঘটনা ঘটার ছয় ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেলাই করতে পারলে কাটা রগ এবং অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা শতভাগ পাওয়া সম্ভব। এটিই কাটা রগের সর্বোত্তম চিকিৎসা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যত্রতত্র পরিষ্কার না করে অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্তভাবে করা উচিত। রক্তনালি ঠিক আছে কি না, তাও ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটার ছয় ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেলাই করতে পারলে কাটা রগ এবং অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা শতভাগ পাওয়া সম্ভব। এটিই কাটা রগের সর্বোত্তম চিকিৎসা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যত্রতত্র পরিষ্কার না করে অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্তভাবে করা উচিত। রক্তনালি ঠিক আছে কি না, তাও ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ছয় ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইনফেকশনের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। এতে চিকিৎসার সুফল কমে আসতে থাকে। তথাপি দুর্ঘটনা ঘটার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা করা সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ রেখে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।