ঢাকার পূর্বাচল ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে নীলা মার্কেট এলাকা। সেখানে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় হরেক রঙের চমৎকার সব টব দেখে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এগুলো বুঝি বিদেশ থেকে আমদানি করা। কিন্তু না, এগুলো আমাদের দেশেই তৈরি। আন্তর্জাতিক মানের এই ফাইবার টবগুলো তৈরি করছেন একজন স্থানীয় উদ্যোক্তা
তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আজগার টব’। স্বত্বাধিকারী আজগার আলী আগে স্যানিটারি এবং বিল্ডিং ডিজাইনের কাজ করতেন। আজ তিনি পূর্বাচলে ফাইবারের আধুনিক টব তৈরি করে চমক লাগিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই এখন তার এই নার্সারি জগতকে বলেন ‘দ্বিতীয় মালয়েশিয়া’।
বাধা পেরিয়ে নতুন শুরু
শুরুটা সহজ ছিল না। পূর্বাচলে তখন নতুন বাড়িঘর তেমন ছিল না। তাই আজগার ভাইয়ের স্যানিটারি মালের বিক্রি খুব কম হতো। তিনি দেখলেন, এই এলাকায় গাছ এবং বাগানের ব্যাপক চাহিদা আছে। তাই তিনি স্যানিটারির কাজ বন্ধ করে দিলেন। শুরু করলেন আধুনিক টব তৈরির কাজ। শুরুতে চারপাশের মানুষ তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠাট্টা করেছিল। অনেকেই তাকে পাগল ভেবেছিল। কিন্তু আজগার আলী দমে যাননি। তিনি নিজের বুদ্ধিতে কাজ চালিয়ে গেছেন। আজ তিনি সফল। যারা আগে হাসাহাসি করেছিল, এখন তারাই বাহবা দেয়।
সিমেন্ট নয়, চায়না ফাইবারের জাদু
আজগার ভাইয়ের তৈরি টবগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থায়িত্ব। এগুলো সাধারণ সিমেন্টের টব নয়। এগুলো তৈরি হয় উন্নত মানের চায়না কেমিক্যাল এবং ফাইবার দিয়ে।
সিমেন্টের টব অনেক ভারী হয়। একা তোলা যায় না। পড়ে গেলে ভেঙে যায়। অল্প দিনেই রঙ চটে যায়। কিন্তু আজগার ভাইয়ের ফাইবার টবগুলো ওজনে অত্যন্ত হালকা। একা অনায়াসে সরানো যায়। রোদ-বৃষ্টিতেও এই টবের রঙ নষ্ট হয় না। সাবান দিয়ে ধুয়ে নিলেও নতুনের মতো চকচক করে।
কম খরচে বিশ্বমানের পণ্য
বিদেশি বা চায়না টবের দাম বাজারে অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে থাকে। কিন্তু নীলা মার্কেটের ‘আজগার টব’-এ এগুলো মিলছে সাশ্রয়ী মূল্যে। সিমেন্টের যে সাইজের টব ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ফাইবারের সেই টব আজগার ভাই দিচ্ছেন মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকায়। তিনি শোরুমের মতো বাড়তি দাম নেন না। মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা সীমিত লাভে কাস্টমারদের হাতে পণ্য তুলে দেন।
ডিজাইনে বৈচিত্র্য ও বড় অর্ডার
আজগার ক্রেতার পছন্দমতো যেকোনো ডিজাইন কাস্টমাইজ করে দিতে পারেন। তার এখানে চায়ের কাপের ডিজাইনের টব পাওয়া যায়। শাপলা বা পদ্ম চাষের জন্য বিশেষ পাত্র আছে। ঘরের ভেতর অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ রাখার মতো সুন্দর পাত্রও তিনি তৈরি করেন।
বর্তমানে বাসাবাড়ি, ছাদবাগান, বারান্দা, বিভিন্ন আধুনিক রিসোর্ট এবং করপোরেট অনুষ্ঠানের জন্য তার টব বুকিং হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি ১ লাখ টাকারও বড় বড় অর্ডার পেয়েছেন। ঢাকার শোরুমে না গিয়ে মানুষ এখন সরাসরি পূর্বাচলে তার কারখানায় চলে আসছে। চাকরির পেছনে না ঘুরে, নিজের মেধা খাটিয়ে যে ভাগ্য বদলানো যায়, আজগার আলী তার বড় প্রমাণ।