প্যাশন ফ্রুটে মামুনের বিপ্লব

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

হাসান আল মামুন যখন প্যাশন ফ্রুটের চাষ শুরু করার  সিদ্ধান্ত নেন, তখন শিকার হয়েছেন মানুষের উপহাসের।তবে সেসব আমলে না নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন প্যাশন ফ্রুটের সফল এক খামার । তরুণ এই উদ্যোক্তাকে নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে একটি ফল খেয়েছিলেন এক যুবক। ফলটি ছিল বেশ টক-মিষ্টি। মুখে দিলেই চমৎকার এক ‘ট্যাং’ (ঞধহম) পাউডারের মতো ফ্লেভার পাওয়া যায়। সেই স্বাদই তার জীবন বদলে দিল। প্রাইভেট চাকরির চাপ ছেড়ে তিনি এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

আমরা বলছি হাসান আল মামুনের কথা। ঢাকার পাশে হবুয়ারচালা,  কালিয়াকৈর,  গাজীপুর এলাকায় তিনি ‘প্যাশন ফ্রুট’ চাষ শুরু করেছেন। কক্সবাজারে এটি ‘আনারকলি’ নামে পরিচিত। আর ট্যাং ড্রিংকসের মতো স্বাদের কারণে অনেকে একে ‘ট্যাং ফল’ও বলে।

বাধা পেরিয়ে পথচলা

শুরুর পথটা সহজ ছিল না। তিনি চাকরি ছেড়ে দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। মাচা, বাঁশ আর জাল কিনতে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেন। তখন চারপাশের মানুষ নানা কথা বলেছিল। অনেকেই বলেছিল, ‘এসব করে লাভ নেই।’ কিন্তু তিনি দমে যাননি। মানুষের কথায় কান দেননি। নিজের উদ্যমে কাজ করে গেছেন। আজ তার বাগানে প্রচুর ফল এসেছে। যারা আগে সমালোচনা করেছিল, এখন তারাই এসে বাহবা দিচ্ছে।

চাকরি ছেড়ে কেন কৃষিতে?

এই উদ্যোক্তা আগে একটি প্রাইভেট জব করতেন। সেখানে কাজের প্রচুর চাপ ছিল। ঘড়ি ধরে অফিস করতে হতো। কিন্তু মাস শেষে তেমন লাভ হতো না।

তিনি ছোটবেলা থেকেই কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষির প্রতি টান ছিল। কক্সবাজার থেকে আনা কয়েকটি চারা প্রথমে বাড়িতে লাগান। সেখানে ভালো ফলন হয়। ফল বিক্রি করে ভালো লাভও হয়। তখনই তিনি চাকরি ছেড়ে বাণিজ্যিক চাষের সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকার বাজারের চাহিদা পূরণ করাই ছিল তার লক্ষ্য।

আয় ও ফলের চাহিদা

এখন তার বাগান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ২৫ কেজি ফল তোলা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা। উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার ফল কখনোই জমে থাকে না। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদাই বেশি।’ তিনি পাইকারি ফল বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে চারাও বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে এখন তার প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

বেকারদের জন্য পরামর্শ

এই ফলের বড় সুবিধা হলো এর দ্রুত ফলন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসে। বেকার তরুণদের উদ্দেশ্যে এই সফল চাষি বলেন ‘অনেকেরই অল্প পতিত জমি আছে। মাত্র ১ বা ২ শতাংশ জমি থাকলে সেখানে ৫-৬টি চারা লাগান। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে দেখুন। ৬ মাস পর ফলন দেখে আপনি নিজেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করতে পারবেন।’

কৃষিতে একটু শ্রম দিলে খুব দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব। হাসান আল মামুন তার বড় প্রমাণ। চাকরির পেছনে না ঘুরে মাটিতে শ্রম দিলে যে ভাগ্য বদলানো যায়, তিনি সেটাই প্রমাণ করলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত