টেবিলের ওপাশ থেকে উড়ে এলো এক বান্ডিল টাকা। সজোরে আঘাত করল এক তরুণের মুখে। সাথে এলো তীব্র উপহাস ‘এই লাইনে ব্যবসা করতে হলে টাকা লাগবে, টাকা!’ তরুণের চোখ দিয়ে তখন ঝরঝর করে পানি পড়ছিল। কিন্তু মনে মনে তিনি এক ভীষণ শপথ নিয়েছিলেন। আজ তিনি সেই অপমানের জবাব দিয়েছেন সফলতায়।
তিনি ওবায়েদুল্লাহ। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অবস্থিত ‘এফএম এন্টারপ্রাইজে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি এখন কোটি টাকার স্টিল বিল্ডিং মেটেরিয়ালসের ব্যবসা করছেন।
শূন্য থেকে শুরু
২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওবায়েদুল্লাহর বড় ভাই হুট করে একটি দোকান নেন। ওবায়েদুল্লাহ তখন ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। স্টিল মেটেরিয়ালস কী, তাও চিনতেন না। কাস্টমার এসে ‘পারলিন’ (চঁৎষরহ) চাইলে তিনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতেন। এরপর অন্য এক কোম্পানির ম্যানেজারের কাছ থেকে তিনি পদে পদে কাজ শেখেন। ব্যবসা শুরুর মাত্র ১৫ দিন পরের ঘটনা। এক কাস্টমার ১৭ লাখ টাকার পারলিনের অর্ডার দেন। কাস্টমার তাকে এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স করেছিলেন। ওবায়েদুল্লাহ সেই টাকা নিয়ে বড় ব্যবসায়ীর কাছে যান। কিন্তু বড় ব্যবসায়ী রেগে যান।
মাত্র ১ লাখ টাকা দেখে তিনি ওবায়েদুল্লাহর মুখে টাকা ছুঁড়ে মারেন। বলেন এই ব্যবসায় নাকি অনেক টাকা লাগে। ওবায়েদুল্লাহ সেদিন কেঁদেছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। মনে মনে শপথ করেন, কোনো অ্যাডভান্স ছাড়াই একদিন কোটি কোটি টাকার মাল বানাবেন।
টিকে থাকার লড়াই
শুরুতে বাজারে কেউ তাকে সাহায্য করেনি। তথ্য জানতে চাইলে মানুষ তাকে তাচ্ছিল্য করত। অনেকে গালি দিয়েছে, পাগল বলেছে। প্রথম এক-দেড় বছর তিনি ভেবেছিলেন ব্যবসা ছেড়ে দেবেন। ভাবতেন তাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু তার ভেতরের জেদ তাকে ঘুমাতে দেয়নি।
আজকের এফ এম এন্টারপ্রাইজ
কদমতলীর ‘এফএম এন্টারপ্রাইজ’ আজ এক নামকরা প্রতিষ্ঠান। যে তরুণ একদিন পণ্য চিনতেন না, আজ তিনি কোটি টাকার লেনদেন সামলান। এখন দোকান খুললেই তার মনে এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস কাজ করে। ওবায়েদুল্লাহ প্রমাণ করেছেন, তীব্র অপমানকেও কীভাবে সফলতার সিঁড়ি বানানো যায়।