হাঙর সাগর বা মহাসাগরে শিকার ধরা এবং বেঁচে থাকার জন্য দুর্দান্ত কিছু প্রাকৃতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ব্যবহার করে। শিকারের অবস্থান বুঝে, পেছন বা নিচ থেকে বিদ্যুৎ গতিতে তারা আক্রমণ করে। পিঠের গাঢ় রঙের সাহায্যে ওপরের পানির সঙ্গে এবং পেটের হালকা রঙের সাহায্যে নিচের পানির আলোর সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙররা শতবর্ষ পুরনো একটি গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে, যা ‘দুই-তৃতীয়াংশ স্কেলিং সূত্র’ নামে পরিচিত। এই গাণিতিক নিয়ম অনুযায়ী, হাঙরের দেহের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের অনুপাত সর্বদা একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক সামঞ্জস্য বজায় রাখে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, হাঙর অনেক দূর থেকে রক্তের গন্ধ এবং সামান্য রক্তের উপস্থিতি টের পেতে পারে। এদের মুখের চারপাশে ‘অ্যাম্পুলি অব লরেঞ্জিনি’ নামের বিশেষ অঙ্গ থাকে, যা শিকারের হৃদস্পন্দন থেকে সৃষ্ট সামান্য বিদ্যুৎ তরঙ্গও শনাক্ত করতে পারে। মজার বিষয় হচ্ছে, কিছু প্রজাতির হাঙর ঘুমানোর সময় সাঁতার কাটতে পারে। অবাক বিষয়, হাঙরের দাঁত নষ্ট বা ভেঙে গেলে সারাজীবন নতুন দাঁত গজাতে থাকে। প্রজাতিভেদে হাঙরের আয়ু ভিন্ন। বেশিরভাগ হাঙর ২০ থেকে ৩০ বছর বাঁচে। তবে কিছু প্রজাতির হাঙর ১০০ বছরের বেশি সময় বাঁচে। যার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হাঙর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।