মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে গত রবিবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জনের বেশি। উদ্ধারকর্মীরা এ কথা জানিয়েছেন। ওই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্রোহীরা বলেছেন, খনি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউংতাত গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ নারী ও ৩০ পুরুষ। তবে অন্য প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
নামখাম জেলার এক উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির নিচে আরও লাশ থাকতে পারে।’ অপর এক উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।
তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। জরুরি সেবাকর্মীরা লাশ সংগ্রহ করে সৎকারের জন্য নিয়ে গেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই জরুরি সেবাকর্মী জানান, ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ এ ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এ বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি তাদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।
এক বাসিন্দা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, এটি কোনো বিমান হামলা। তার পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবারঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’
জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের’ সদস্য টিএনএলএ, আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) নিয়ে গঠিত (এমএনডিএএ) ২০২৪ সালের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে ওই বছরের জুন মাসে, টিএনএলএ শান রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী মান্দালয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা শুরু করে। সেই গ্রীষ্মে বিদ্রোহীরা উত্তরের রুবি-খনির শহর মোগোক দখল করে নেয়, যেখানে টিএনএলএ বিরোধীপক্ষের আক্রমণ পরিচালনা করে। পরে গত বছরের অক্টোবরে টিএনএলএ জানায়, চীনের মধ্যস্থতায় তারা মোগোক থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে।