যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সতর্কতা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ সহসাই বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন-রাশিয়া কয়েকবার আলোচনার টেবিলে বসলেও, কোনো অগ্রগতি আসেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই একে অপরকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই সতর্কবার্তা দেন। একই সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ ইউরোপীয় দেশগুলোর তথাকথিত ‘অস্থিতিশীল নীতি’রও সমালোচনা করেছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ল্যাভরভ যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে তিনি ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আলাস্কায় হওয়া সমঝোতাগুলোর প্রতি মস্কোর প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ মিনিট স্থায়ী এ বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়েও আলোচনা হয়। রুবিও-ল্যাভরভের আলোচনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিও উঠে আসে। বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে দুই শীর্ষ কূটনীতিক মতবিনিময় করেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, দুই পক্ষ ভবিষ্যতেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও এবং ল্যাভরভের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা কয়েক মাস ধরেই স্থবির অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে গেছে। অন্যদিকে মস্কো এখনো যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি থেকে সরে আসেনি। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে জোরদার করার বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেলের ডিপো এবং সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে। অন্যদিকে জুনের শেষ দিকে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত